মঙ্গলবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭

ইখলাস

ইখলাস একটি মহৎ বিষয়, আমল কবুল হওয়ার অন্যতম এক স্তম্ভ। কেননা আল্লাহ তাআলা বান্দার কোনো আমলই কবুল করেন না যদি তা একমাত্র তাঁরই উদ্দেশ্যে, একমাত্র তাঁকেই রাযি-খুশী করার জন্য সম্পাদিত না হয়। যে আমলে আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে উদ্দেশ্য করা হয়, অন্য কাউকে শরীক করা হয়, যে আমলে আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও রেযামন্দী তালাশ করা হয়, সে আমল যত বড়োই হোক বাহ্যিকভাবে যত সুন্দরই হোক আল্লাহর কাছে আদৌ গ্রহণযোগ্য হয় না। আমলের পিছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য নয়, বরং একমাত্র লা-শরীক আল্লাহ তাআলাকে উদ্দেশ্য করা, লোক দেখানো এবং মানুষের প্রশংসা কুড়ানোর মানসিকতা পরিহার করে একমাত্র আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি অর্জনকে উদ্দেশ্য করার নামই হল ইখলাস। আল্লাহ তায়ালা বলেন:  নিশ্চয় আমি তোমার কাছে যথাযথভাবে এই কিতাব নাযিল করেছি অতএব আল্লাহর ইবাদাত কর তাঁরই আনুগত্যে একনিষ্ঠ হয়ে। জেনে রেখ, বিশুদ্ধ ইবাদাত-আনুগত্য আল্লাহরই প্রাপ্য (সূরা আয যুমার:৩)।
আমল যদি ইখলাসশূন্য হয়, ইখলাস থেকে বিচ্যুত হয় তাহলে তা বান্দার পক্ষে না গিয়ে তার বিরুদ্ধে চলে যায়। আবূ হুরাইরা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম যার বিচার করা হবে, সে হলো এমন ব্যক্তি, যে শহীদ হয়েছিল। তাকে হাজির করা হবে এবং আল্লাহ তার নিয়ামতের কথা তাকে বলবেন। আর সে তাকে দেয়া সকল নিয়ামতের কথা স্বীকার করবে। তখন আল্লাহ তাকে বলবেন, তুমি কী কাজ করে এসেছ? সে বলবে, আমি আপনার পথে যুদ্ধ করেছি, শেষ পর্যন্ত শহীদ হয়েছি। আল্লাহ বলবেন: তুমি মিথ্যা বলেছ। তুমি তো যুদ্ধ করেছ লোকে তোমাকে বীর বলবে, এ উদ্দেশ্যে। আর তা বলা হয়েছে। অতঃপর নির্দেশ দেয়া হবে, এবং তাকে টেনে উপুড় করে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।
তারপর এমন ব্যক্তির বিচার করা হবে, যে নিজে জ্ঞান অর্জন করেছে ও অন্যকে শিক্ষা দিয়েছে এবং কুরআন তিলাওয়াত করেছে। তাকে হাজির করা হবে। আল্লাহ তাকে তাঁর নিয়ামতের কথা স্মরণ করিয়ে দিবেন। সে তা স্বীকার করবে। অতঃপর তিনি তাকে জিজ্ঞেস করবেন, কী কাজ করে এসেছ? সে বলবে, আমি জ্ঞান অর্জন করেছি, অন্যকে শিখিয়েছি এবং আপনার জন্য কুরআন তিলাওয়াত করেছি। আল্লাহ বলবেন, তুমি মিথ্যা বলেছ। তুমি জ্ঞান অর্জন করেছ এ জন্য যে লোকে তোমাকে জ্ঞানী বলবে। কুরআন তিলাওয়াত করেছ এ উদ্দেশ্যে যে, লোকে তোমাকে কারী বলবে। আর তা বলা হয়েছে। অতপর আল্লাহর নির্দেশে তাকে উপুড় করে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।
তারপর বিচার করা হবে এমন ব্যক্তির, যাকে আল্লাহ তাআলা দুনিয়াতে সকল ধরনের সম্পদ দান করেছিলেন। তাকে হাজির করে আল্লাহ তার নিআমতের কথা স্মরণ করিয়ে দিবেন। সে সকল নেয়ামত স্বীকার করবে। আল্লাহ তাআলা বলবেন, কী করে এসেছ? সে বলবে, আপনি যে সকল খাতে খরচ করা পছন্দ করেন আমি তার সকল খাতে সম্পদ ব্যয় করেছি, কেবল আপনারই জন্য। আল্লাহ তাআলা বলবেন, তুমি মিথ্যা বলেছ। তুমি সম্পদ এ উদ্দেশ্যে খরচ করেছ যে, লোকে তোমাকে দানশীল বলবে। আর তা বলা হয়েছে। এরপর নির্দেশ দেয়া হবে এবং তাকে উপুড় করে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে (মুসলিম)।
অন্য এক হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি অন্যদেরকে শুনানোর উদ্দেশ্যে নেক-আমল করল, আল্লাহ তা শুনিয়ে দিবেন। আর যে ব্যক্তি অন্যদের দেখানোর উদ্দেশ্যে নেক-আমল করল আল্লাহ তা দেখিয়ে দিবেন (বুখারী)।

অর্থাৎ এ ব্যক্তির নিয়ত অনুযায়ী মানুষদেরকে তার আমল দেখিয়ে দেয়া হবে এবং সে মানুষের প্রশংসাও কুড়াবে, তবে পরকালে তার আমলের বিনিময়ে আদৌ কোনো ছাওয়াব পাবে না। ইখলাস সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানার জন্য: bn.islamkingdom.com/s2/46689

সোমবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭

আল-ওয়াদুদ

আল-ওয়াদুদআল্লাহ তাআলার গুণবাচক নামসমূহের একটি, ইহার অর্থ হল: আল্লাহ স্নেহশীল
আল্লাহ তাঁর বান্দাদের ব্যাপারে স্নেহশীল, তিনি তাদের স্নেহ করেন, নিকটবর্তী করেন। তিনি তাদের উপর সন্তুষ্ট হন এবং তাদেরকেও তাঁর প্রতি সন্তষ্ট করেন। তিনি বান্দার নিকটবর্তী, স্নেহশীল ও বান্দার কল্যাণের ব্যাপারে তিনি মমতাময়ী। আল্লাহ তাআলা বলেন: {তিনি ক্ষমাশীল, প্রেমময়।} [সূরা: বুরুজ, আয়াত: ১৪]
 আল-ওয়াদুদ সম্পর্কে বিস্তারিত পড়ার জন্য: ••►  bn.islamkingdom.com/s2/47987
আল্লাহর গুনবাচক নামসমূহ:  ••► bn.islamkingdom.com/s1/5474

#ইসলাম_কিংডম #আল্লাহর_গুণবাচক_নামসমূহ  # আসমাউল_হুসনা  #আল্লাহর_৯৯_নাম  #আল_ওয়াদুদ


বৃহস্পতিবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭

ধার্মিকতা

যেমনিভাবে কোন যন্ত্রের তৈরিকারক ঐ যন্ত্র ও উহার প্রয়োজন সম্পর্কে সবচেয়ে বেশী জ্ঞাত, তেমনিভাবে মহান স্রষ্টা তাঁর সৃষ্টি ও তাদের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে অধিক জ্ঞাত। আল্লাহ তায়ালা বলেন: যিনি সৃষ্টি করেছেন, তিনি কি জানবেন না? তিনি তো সূক্ষ্মজ্ঞানী, সম্যক জ্ঞাত। [সূরা মুলক: ১৪]  https://bn.islamkingdom.com/ইসলাম-সম্পর্কে-জানুন/শান্তির-পথ/মানুষের-জন্য-কি-ধর্মের-প্রয়োজন/মানুষের-ধর্মের-প্রয়োজনীয়তা


মঙ্গলবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭

মহাবিশ্ব সৃষ্টির রহস্য

আল্লাহর সৃষ্টি নিয়ে গবেষণা আল্লাহর প্রতি ঈমান আনয়নের সবচেয়ে উপযোগী পন্থা। এতে মানুষের মনে বিশ্বাস বৃদ্ধি পায়। স্রষ্টার মহত্ব, জ্ঞান-গরিমা ও হিকমত জানা যায়। আল্লাহ তায়ালা আসমান জমিন যথার্থভাবে সৃষ্টি করেছেন, এগুলোকে অনর্থক সৃষ্টি করেননি। তিনি কোন কিছু নিরর্থক কিছু সৃষ্টি করেন না। আল্লাহ তায়ালা বলেন: আল্লাহ যথার্থরূপে নভোমন্ডল ও ভূমন্ডল সৃষ্টি করেছেন। এতে নিদর্শন রয়েছে ঈমানদার সম্প্রদায়ের জন্যে। (আনকাবুত: ৪৪)
মানুষ যদি এ মহাবিশ্ব ও এর ভিতরে যা কিছু আছে তা নিয়ে একটু চিন্তা করে এবং গভীরভাবে গবেষণা করে তবে সে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করবে যে, এ বিশ্ব অত্যন্ত সুক্ষ্মভাবে সুবিন্যস্ত করে সৃষ্টি করা হয়েছে। একজন প্রজ্ঞাময়, সর্বশক্তিমান ও সর্বজ্ঞানী ইলাহ তা সৃষ্টি করেছেন, তিনি একে উত্তমরূপে সুপরিমিতভাবে বানিয়েছেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন: কাফেররা কি ভেবে দেখে না যে, আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর মুখ বন্ধ ছিল, অতঃপর আমি উভয়কে খুলে দিলাম এবং প্রাণবন্ত সবকিছু আমি পানি থেকে সৃষ্টি করলাম। এরপরও কি তারা বিশ্বাস স্থাপন করবে না? আমি পৃথিবীতে ভারী বোঝা রেখে দিয়েছি যাতে তাদেরকে নিয়ে পৃথিবী ঝুঁকে না পড়ে এবং তাতে প্রশস্ত পথ রেখেছি, যাতে তারা পথ প্রাপ্ত হয়। আমি আকাশকে সুরক্ষিত ছাদ করেছি; অথচ তারা আমার আকাশস্থ নিদর্শনাবলী থেকে মুখ ফিরিয়ে রাখে। তিনিই সৃষ্টি করেছেন রাত্রি ও দিন এবং সূর্য ও চন্দ্র। সবাই আপন আপন কক্ষপথে বিচরণ করে। (আম্বিয়া: ৩০-৩৩)
প্রথম আমেরিকান মহাকাশচারী জন গ্লেন বলেন: এ ধরনের সৃষ্টি দেখেও তুমি আল্লাহর উপর ঈমান আনবে না এটা অসম্ভব! এ সৃষ্টি তো আমার ঈমানকে আরো মজবুত করেছে। আমি এ চিত্রের আরো কিছু বিবরণ চাই।
আল্লাহ তায়ালা বলেন: তিনিই আল্লাহ, যিনি নভোমন্ডল ও ভুমন্ডল সৃজন করেছেন এবং আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করে অতঃপর তা দ্বারা তোমাদের জন্যে ফলের রিযিক উৎপন্ন করেছেন এবং নৌকাকে তোমাদের আজ্ঞাবহ করেছেন, যাতে তাঁর আদেশে সমুদ্রে চলা ফেরা করে এবং নদ-নদীকে তোমাদের সেবায় নিয়োজিত করেছেন। এবং তোমাদের সেবায় নিয়োজিত করেছেন সূর্যকে এবং চন্দ্রকে সর্বদা এক নিয়মে এবং রাত্রি ও দিবাকে তোমাদের কাজে লাগিয়েছেন। যে সকল বস্তু তোমরা চেয়েছ, তার প্রত্যেকটি থেকেই তিনি তোমাদেরকে দিয়েছেন। যদি আল্লাহর নেয়ামত গণনা কর, তবে গুণে শেষ করতে পারবে না। নিশ্চয় মানুষ অত্যন্ত অন্যায়কারী, অকৃতজ্ঞ। (ইবরাহিম: ৩২-৩৪)

মহাবিশ্ব সৃষ্টির রহস্য সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানার জন্য: bn.islamkingdom.com/s2/47448

সোমবার, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭

আল মুবীন


'আল-মুবীন' আল্লাহ তাআলার গুণবাচক নামসমূহের একটি, ইহার অর্থ হল: সুস্পষ্টকারী-প্রকাশক।

আল্লাহ সত্য ও বস্তুর অন্তর্নিহিত রহস্য প্রকাশকারী। ফলে যাবতীয় সংশয় দূরীভূত হয়। আল্লাহর একত্ব স্পষ্ট। নিঃসন্দেহে তাঁর কোন শরীক নেই। আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রতিষ্ঠিত যৌক্তিক ও শরয়ী প্রমাণ এবং ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য ও আত্মিক প্রমাণ; সৃষ্টিকুলের প্রতি বদান্যতা তাঁর সুমহান অস্তিত্ব ও বিরাট কর্তৃত্বকে সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত করেছে।

আল্লাহর গুনবাচক নাম 'আল-মুবীন' সম্পর্কে বিস্তারিত পড়ার জন্য: ••►  bn.islamkingdom.com/s2/48013

আল্লাহর গুনবাচক নামসমূহ:  ••► bn.islamkingdom.com/s1/5474


#ইসলাম_কিংডম #আল্লাহর_গুণবাচক_নামসমূহ  #আল_মুবীন


রবিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭

আইয়ামুল বিয তথা প্রতিমাসের মধ্যবর্তী তিনদিন রোজা রাখার ফজিলত

প্রতি চান্দ্র মাসের তেরো, চৌদ্দ ও পনের তারিখকে আইয়ামুল বিয বলে। এ তিনদিনের রাতগুলো চাঁদের আলোয় উদ্ভাসিত থাকে বলে এ দিনগুলোকে আইয়ামুল বিয বা শুভ্রদিন বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। আবদুল মালিক ইবনে মিনহাল তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে ছিলেন। তিনি বললেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে আইয়ামুল বিয এর রোজা রাখার নির্দেশ দিতেন এবং বলতেন,এটাই হলো বছরব্যাপী রোজা রাখা।(বর্ণনায় বুখারী)
বিস্তারিত পড়ার জন্য: bn.islamkingdom.com/s2/46727



বৃহস্পতিবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭

উচ্চতর আদর্শ

#ইসলাম_কিংডম
#বিখ্যাত_মণীষীদের_বাণী 

জ্ঞানগর্ব উপদেশ, সারগর্ভ উক্তি, প্রবাদবাক্য, বিখ্যাত মণীষীদের বাণী জানার জন্য:   bn.islamkingdom.com/s1/5340


মঙ্গলবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭

ইসলামে মানুষের মর্যাদার মাপকাঠি

কেউ বলে ধনসম্পদ, কেউ বলে  বড় কোনো পদ, আবার কেউ বলে বাহ্যিক আকার-আকৃতি বা উত্তম হৃদয়, কিন্তু মানুষের মর্যাদার প্রকৃত মাপকাঠি কী? মানুষের দৃষ্টিকোণকে পরিশুদ্ধ করে কুরআন ও হাদীস এক্ষেত্রে কি মানদণ্ড নির্ধারণ করেছেন?
মানুষের মধ্যে কোন্ গুণ থাকলে সে মর্যাদা লাভ করবে আর কোন্ গুণের মর্যাদা হারাবে এ ব্যাপারে আমরা একেক রকম ধারণা পোষণ করি। কেউ মনে করি, অঢেল সম্পদের মালিক হলে কিংবা প্রভাব প্রতিপত্তিশীল হলে মানুষ সম্মান পাওয়ার উপযুক্ত হয়। আবার কেউ মনে করি, বড় কোনো পদের অধিকারী হলেই কেবল সম্মানের উপযুক্ত হওয়া যায়।
কিন্তু সম্মানের এ মাপকাঠি আমরা নিজেরা তৈরি করে নিয়েছি। অথচ আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে সম্মানের যে মাপকাঠি বর্ণনা করেছেন এবং রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্মানের যে মানদণ্ড নির্ধারণ করেছেন তা আমাদের এ মাপকাঠি থেকে ভিন্ন।
 আল্লাহ তাআলা এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকওয়া এবং ধর্মনিষ্ঠাকে সম্মানের মাপকাঠি হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: নিশ্চয় তোমাদের মধ্যে আল্লাহর নিকট সেই সবচে বেশি সম্মানিত যে তোমাদের মধ্যে অধিক তাকওয়াধারী (সূরা আল হুজুরাত: ১৩)।
রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: আল্লাহ তাআলা তোমাদের আকার-আকৃতি ও ধনসম্পদ দেখেন না। তিনি তোমাদের মনের অবস্থা ও আমল দেখেন (মুসলিম)। এ হাদীস থেকে বুঝা যায় যে, বাহ্যিক আকার-আকৃতি ও ধনসম্পদ উত্তম মানুষের আলমত নয়, বরং উত্তম মানুষের আলামত হলো উত্তম হৃদয় ও উত্তম আমলের অধিকারী হওয়া।
 ইবরাহীম আ. এর ধনসম্পদের প্রাচুর্য ছিল না। তিনি কোনো রাজা-বাদশাহও ছিলেন না। তবে তাঁর ছিল আল্লাহর জন্য একনিষ্ঠতা এবং তাওহীদের মহা প্রাচুর্য, যার কারণে তাঁকে একাই একটি জাতি বলে আল কুরআনে উল্লেখ করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন: ইবরাহীম ছিলেন আল্লাহ তাআলার অনুগত একনিষ্ঠ উম্মত। তিনি মুশরিক ছিলেন না (সূরা আন-নাহল:১২০)। এখানে আল্লাহ তাআলা ইবরাহীম আ. এর প্রশংসা করতে গিয়ে ধন-সম্পদের কথা বলেননি বরং তার সম্মানের কারণ হিসেবে ঈমান ও আল্লাহর আনুগত্যের কথা বলেছেন। মানুষের মর্যাদার প্রকৃত মাপকাঠি কী? প্রবন্ধটি বিস্তারিত পড়ার জন্য: ••►  bn.islamkingdom.com/s2/46651

সোমবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭

আল-মুজিব

#ইসলাম_কিংডম
#আল্লাহর_গুণবাচক_নামসমূহ
'আল-মুজিব' আল্লাহ তাআলার গুণবাচক নামসমূহের একটি, ইহার অর্থ হল: আল্লাহ দোয়াকবুলকারী। জেলখানায় বন্দী মুক্তির প্রত্যাশায়, সমুদ্রে নিমজ্জিত ব্যক্তি পরিত্রাণের আশায়, দারিদ্রতার কশাঘাতে জর্জরিত ব্যক্তি তার দারিদ্র মুক্তির আশায়, এতিম তার অসহায়ত্ব লাঘবের জন্য, অসুস্থ তার অসুস্থতা দূরের আশায়, বন্ধ্যা তার বন্ধ্যাত্ব পরিসমাপ্তির তরে তাঁর প্রতি আকুতি জানায়। অত:পর তিনি তাদের দোয়া কবুল করেন। মানুষকে তার প্রার্থিত বস্তু দান করেন এবং সুখী-সমৃদ্ধশালী করেন। তিনি ঐ সত্তা যিনি যেকোন অবস্থায় যেকোন স্থানে প্রার্থনাকারীর ডাকে সাড়া দেন। আল্লাহর গুনবাচক নাম 'আল-মুজিব' সম্পর্কে বিস্তারিত পড়ার জন্য: ••►  bn.islamkingdom.com/s2/47993

আল্লাহর গুনবাচক নামসমূহ:  ••► bn.islamkingdom.com/s1/5474


বৃহস্পতিবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭

মানুষের মর্যাদার প্রকৃত মাপকাঠি কী?

মানুষের মর্যাদার প্রকৃত মাপকাঠি কী?
কেউ বলে ধনসম্পদ, কেউ বলে  বড় কোনো পদ, আবার কেউ বলে বাহ্যিক আকার-আকৃতি বা উত্তম হৃদয়, কিন্তু মানুষের মর্যাদার প্রকৃত মাপকাঠি কী? মানুষের দৃষ্টিকোণকে পরিশুদ্ধ করে কুরআন ও হাদীস এক্ষেত্রে কি মানদণ্ড নির্ধারণ করেছেন?

মানুষের মর্যাদার প্রকৃত মাপকাঠি কী? মানুষের মধ্যে কোন্ গুণ থাকলে সে মর্যাদা লাভ করবে আর কোন্ গুণের মর্যাদা হারাবে এ ব্যাপারে আমরা একেক রকম ধারণা পোষণ করি। কেউ মনে করি, অঢেল সম্পদের মালিক হলে কিংবা প্রভাব প্রতিপত্তিশীল হলে মানুষ সম্মান পাওয়ার উপযুক্ত হয়। আবার কেউ মনে করি, বড় কোনো পদের অধিকারী হলেই কেবল সম্মানের উপযুক্ত হওয়া যায়। কিন্তু সম্মানের এ মাপকাঠি আমরা নিজেরা তৈরি করে নিয়েছি। অথচ আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে সম্মানের যে মাপকাঠি বর্ণনা করেছেন এবং রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্মানের যে মানদণ্ড নির্ধারণ করেছেন তা আমাদের এ মাপকাঠি থেকে ভিন্ন। প্রবন্ধটি বিস্তারিত পড়ার জন্য••► bn.islamkingdom.com/s2/46651


বুধবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭

ক্বারী আব্দুল বাসেত আব্দুস সমাদ

যার তিলাওয়াত হৃদয় ছুঁয়ে যায়, ... যিনি ভিন্ন ধারায় কুরআন তিলাওয়াত করে বিশ্ববিখ্যাত ক্বারী হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন... ক্বারী আব্দুল বাসেত আব্দুসসমাদ। তাঁর মধুর কন্ঠে কুরআন তিলাওয়াত শুনুন: https://bn.islamkingdom.com/ক্বারী/আব্দুল-বাসেত-আব্দুস-সমাদ


মঙ্গলবার, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭

আছ্-ছমাদ

আছ্-ছমাদ” আল্লাহ তাআলার গুণবাচক নামসমূহের একটি, ইহার অর্থ হল: আল্লাহ স্বয়ংসমৃদ্ধতিনি স্বয়ংসমৃদ্ধ। যার কাছে সমস্ত সৃষ্টিজীব, তাদের সকল প্রয়োজনে এবং সর্বাবস্থায় প্রার্থনা করে। কেননা তিনিই আপন সত্তা, গুনাবলী ও নাম এবং কর্মে পূরিপূর্ণ ও স্বয়ংসমৃদ্ধ। তিনি আপন নাম ও গুণসমূহে পরিপূর্ণ। সুতরাং কোন অসম্পূর্ণতা ও অক্ষমতা তাঁকে স্পর্শ করতে পারে না। ••► bn.islamkingdom.com/s2/48004

আল্লাহর নামসমূহ:  ••► bn.islamkingdom.com/s1/5474


রবিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭

মানুষের জন্য কি নবী রাসূলের প্রয়োজনীয়তা আছে?

মানুষের জন্য কি নবী রাসূলের প্রয়োজনীয়তা আছে?

আল্লাহ তায়ালা মানুষকে সুস্থ স্বভাব দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। তাদেরকে সত্য মিথ্যা নিরুপন করতে বিবেক দান করেছেন। যেহেতু মানুষের বিবেকবুদ্ধি ভুল ত্রুটি, অপূর্নাঙ্গতা, প্রবৃত্তি ও স্বার্থপরায়নতা ইত্যাদি নানা সমস্যার সম্মুখীন হয়; বরং এতে ভিন্নতা ও বৈপরীতও দেখা যায়। কেউ একটা জিনিসকে ভাল মনে করেন অন্যদিকে আরেকজন সেটাকে খারাপ মনে করেন। বরং একই ব্যক্তি স্থান, কাল পাত্রভেদে তার মত পরিবর্তন করে করে থাকেন। অপর দিকে যেহেতু মানুষের বিবেক দৃশ্য জিনিস বুঝতে এভাবে ভিন্ন হয়ে থাকে তখন অদৃশ্য বিষয় যা অনেক সময় জ্ঞান বুঝতে অক্ষম বুঝতে কতটা বেগ পাবে?! সে সৃষ্টিকর্তা, তাঁর সৃষ্টির উদ্দেশ্য, আদেশ নিষেধ বুঝতে আরো বেশী অক্ষম। কেননা মানুষ আল্লাহকে তো সরাসরি দেখতেও পায়না। এজন্যই আল্লাহ তায়ালা তাঁর ও বান্দাহর মাঝে দূত হিসেবে তাঁর সৃষ্টির সর্বোত্তম বান্দাহদের থেকে নবী রাসূল প্রেরণ করেছেন। তাঁরা মানুষদেরকে তাদের সৃষ্টিকর্তার পথ দেখান। তাদেরকে অন্ধকার থেকে হেদায়েতের আলোর দিকে নিয়ে আসেন। যাতে করে নবী রাসূলদের পরে আল্লাহর কাছে মানুষের কোন অজুহাত বা প্রমাণ না থাকে। বিস্তারিত পড়ার জন্য: ••► bn.islamkingdom.com/s2/47456


বৃহস্পতিবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭

নামাজ

নামাজ এমন একটি ইবাদত যা সপ্তাকাশের উপরে জিবরীল (আ)-এর মাধ্যম ছাড়াই সরাসরি ফরয হয়েছে। নামাজ আল্লাহ ও বান্দার মাঝে এক সেতুবন্ধন। মুসল্লীদের মধ্যে এমন অনেককে দেখা যায়, যারা নামাজের সময় কাকের মতো ঠোকর মারে। অতি দ্রুত নামাজ শেষ করে বের হয়ে যায়। নামাজে তারা ধীরস্থিরতা অবলম্বন করে না। বস্তুত তারা নামাজের মধ্যে কোনোরূপ স্বাদ ও তৃপ্তি অনুভব করতে ব্যর্থ হয়। নামাজে তারা আল্লাহ তাআলাকে খুব কমই স্মরণ করে। নামাজের মধ্যে বারবার এদিক-সেদিক তাকানো, শরীর চুলকানো, নামাজ অবস্থায় স্বীয় মাল বিনষ্ট হয়ে যাওয়ার চিন্তা করা ইত্যাদি নামাজের পরিপন্থি বিষয়।