মঙ্গলবার, ২১ জুন, ২০১৬

যাকাতের অন্যতম কিছু উপকারিতা

যাকাত হলো আত্মা, সম্পদ ও সমাজকে বিশুদ্ধকারী ও সম্পদ বৃদ্ধিকারী। আর যাকাত হলো ধনীদের সম্পদে গরিবদের জন্য ধার্যকৃত অধিকার বা পাওনা। যাকাতের গুরুত্ব ইসলামে অপরিসীম। যাকাতকে ইসলামের পঞ্চমূলে অন্তর্ভুক্ত করা যাকাতের গুরুত্ব ও মর্যাদার সুস্পষ্ট প্রমান যাকাতেরঅন্যতম কিছু উপকারিতা নিম্নে উল্লেখ করা হলো:
১- যাকাত মানব আত্মাকে কৃপণতা ও লোভ লালসার ত্রুটি থেকে পবিত্র করে।
২- যাকাত দরিদ্রদের সহযোগিতা করে, মুখাপেক্ষীদের প্রয়োজন মেটায়, এবং বঞ্চিতদেরকে সহযোগিতা করে।
৩- যাকাত সর্বসাধারণের মঙ্গল প্রতিষ্ঠা করে যার উপর মানুষের জীবন ও কল্যাণ নির্ধারিত হয়।
৪- যাকাত সম্পদকে পুঞ্জীভূত করার মানসিকতায় লিপ্ত ধনী এবং ব্যবসায়ীদের জন্য এটি একটি সীমারেখা; যাতে সম্পদ কোন গোত্রের নিকট অথবা কোন ধনীর নিকট আবদ্ধ না থাকে।
৫- আর নিশ্চয় যাকাত ইসলামী সমাজকে এমনভাবে তৈরী করে যেন তা একই  পরিবার। যাকাত সমাজে সবলের সাথে দুর্বলের এবং ধনীর সাথে দরিদ্রের সু-সম্পর্ক স্থাপন করে।
৬- যাকাত মানুষের মনে ধনীদের উপর যে ক্রোধ ও ক্ষোভ আছে তা দূরীভূত   করে দেয় এবং আল্লাহ তায়ালা তাদেরকে নেয়ামত দেয়ার ফলে তাদের প্রতি  যে হিংসা বিদ্বেষ থাকে তাও নিঃশেষ করে দেয়।
৭- যাকাত বিভিন্ন অর্থনৈতিক অপরাধ কমিয়ে আনতে সহায়তা করে, যেমন     চুরি, লুণ্ঠন, ডাকাতি ইত্যাদি।
৮- মালকে পবিত্র করে এবং মাল বৃদ্ধি করে।
 যাকাত হল ইসলামের স্তম্ভের মধ্যে একটি অন্যতম স্তম্ভ। আর তার গুরুত্ব এতো বেশি, যেন যাকাত ছাড়া ইসলাম পরিপূর্ণ হয় না।
বিস্তারিত পড়তে  ••►  bn.islamkingdom.com/s1/4882



বুধবার, ১৫ জুন, ২০১৬


ইসলামি শরীয়তে যাকাতের অবস্থান

আভিধানিক অর্থে যাকাতঃ বৃদ্ধি পাওয়া, বর্ধিত হওয়া। শরয়ী পরিভাষায় যাকাতঃ নির্দিষ্ট পরিমান সম্পদ যা সুনির্দিষ্ট সময় বিশেষ মানবগোষ্ঠিকে প্রদান করা হয়।
যাকাত ইসলামের ফরজকর্মসমূহের একটি এবং ইসলামের তৃতীয় রুকন। আল্লাহ তাআলা বলেন: (তোমরা নামাজ প্রতিষ্ঠা করো ও যাকাত প্রদান করো।) [ সূরা আন-নূর:৫৬]
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,ইসলাম পাঁচটি বিষয়ের ওপর নির্মিত: এ সাক্ষ্য দেয়া যে আল্লাহ ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর বান্দা ও রাসূল। নামাজ প্রতিষ্ঠা করা। যাকাত প্রদান করা। বায়তুল্লাহর হজ্ব করা ও রমজানের রোজা রাখা।(বর্ণনায় বুখারী ও মুসলিম)
যাকাতের গুরুত্ব ইসলামে অপরিসীম। যাকাতকে ইসলামের পঞ্চমূলে অন্তর্ভুক্ত করা যাকাতের গুরুত্ব ও মর্যাদার সুস্পষ্ট প্রমান। যাকাতের উপকারিতা সমূহে চিন্তাভাবনা করলে যেকোন বিবেকবানই এই বিধানটির গুরুত্ব ও তাৎপর্য অনুধাবন করতে পারবে। যাকাত হলো আত্মা, সম্পদ ও সমাজকে বিশুদ্ধকারী ও সম্পদ বৃদ্ধিকারী।
যাকাত সম্পর্কে এবং যাকাতের মাসায়েল গুলো বিস্তারিত জানতে এই লিংকে ক্লিক করুন ••►


মঙ্গলবার, ৭ জুন, ২০১৬

মন ও মননে ঈমানের সৌধ নির্মানে রমজান মাস ও রোযা হলো একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মতো।

রমজান মাস ও রোযা হলো একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মতো। অনেক শিক্ষণীয় বিষয় আছে এই মাসে, বান্দার জীবনে রোজার অনেক উপকারিতাও প্রভাব বিদ্যমান- তন্মেধ্যে উল্লেখযোগ্যঃ
১- সিয়াম বান্দা ও তার সৃষ্টিকর্তার মাঝে এক গোপন রহস্য। এর মাধ্যমে মুমিনের অন্তরে সত্যবাদিতার বীজ স্থাপিত হয়। কেননা সিয়াম অবস্থায় অন্তরে লৌকিকতার কোন জায়গা হয় না। সিয়াম মুমিনের অন্তরে আল্লাহর সর্বদর্শনের বিশ্বাস এবং আল্লাহর ভয় প্রতিপালন করে। আর উক্ত মনোবৃত্তি অর্জন মানুষের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রাপ্তি, যা ছাড়া বহু মানুষের জন্যই স্বপ্নের সৌধে পৌঁছা সম্ভবপর হয় না।
২- সিয়াম মানুষকে শৃঙ্খলা, ঐক্য, ভালবাসা, ন্যায়পরায়ণতা এবং সমতা বিধানের শিক্ষা দেয়। রোজা মানুষদের অন্তরে দয়া, সহানুভূতি এবং পরোপকারিতার মনোভাব সৃষ্টি করে। যেমনিভাবে ঐক্যবদ্ধ জীবন সমাজকে বিভিন্ন অন্যায় ও পাপ কাজ থেকে দূরে রাখে।
৩- সিয়াম মুসলমানদেরকে তার অন্য ভাইয়ের ব্যাথা বুঝতে সাহায্য করে। রোজা পালনকারী মিসকীন এবং গরিবদের প্রতি সহানুভুতিশীল হয় এবং সে অন্যের কষ্ট দূর করার ব্যাপারে সচেষ্ট থাকে। আর এভাবে মুসলমানদের মাঝে ভ্রাতৃত্ব এবং ভালোবাসা প্রতিষ্ঠিত হয়।
৪- সিয়াম আত্মাকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং এটি দায়িত্বশীল ও সহনশীল করার একটি কার্যকরী প্রশিক্ষণ।
৫- সিয়াম মানুষকে পাপ কাজে পতিত হওয়া থেকে রক্ষা করে এবং মানুষকে প্রভূত কল্যাণ দান করে। এ ব্যাপারে  রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ সিয়াম হলো ঢালের মতো, সুতরাং কেউ যেন রোজা অবস্থায় সহবাস না করে, এবং মুর্খের মত কাজ না করে। যদি কোন ব্যক্তি কারো প্রতি তেড়ে আসে অথবা তাকে গালি দেয়, তাহলে সে যেন বলে, আমি রোজাদার আমি রোজাদার। আর কসম ঐ সত্তার যার হাতে আমার প্রাণ; রোজাদারদের মুখের গন্ধ আল্লাহর কাছে মিশ্‌কের সুগন্ধের চেয়েও উত্তম। (হাদীসে কুদসীতে আল্লাহ বলেন) কেননা সে আমার জন্য পানাহার এবং তার খাহেশাত পরিত্যাগ করে। রোজা আমার জন্য এবং আমি নিজেই তার প্রতিদান দেব। আর ভাল কাজের প্রতিদান হলো দশ গুণ। (বুখারী)
রমজান ও রোজা সম্পর্কে বিস্তারিত পড়তে এই লিংকে ক্লিক করুন ••► bn.islamkingdom.com/s1/4881


সোমবার, ৬ জুন, ২০১৬

রমজান কি অনন্য মাসের মতো একটি সাধারন মাস?

 রমজানের রোজা ইসলামের পাঁচ স্তম্ভের একটি এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে বান্দার ওপর ফরজ করে দেওয়া একটি ফরজ। আল্লাহ তাআলা বলেন :(হে মুমিনগণ, তোমাদের উপর সিয়াম ফরয করা হয়েছে, যেভাবে ফরয করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর। যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন কর।) [সূরা আল বাকারা:১৮৩]
রোজার ফজিলত অঢেল, এর ছাওয়াব বহুগুণে বর্ধিত। আল্লাহ তাআলা রোজাকে তাঁর একান্ত বিষয় বলে উল্লেখ করে এ ইবাদাতটিকে মহিমান্বিত করেছেন, এর আযমত বাড়িয়ে দিয়েছেন। আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত এক হাদীসে কুদ্সীতে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আদম সন্তানের প্রতিটি আমলের ছাওয়াবই দ্বিগুণ করে দেয়া হয়। প্রতিটি সৎকাজ দশগুণ থেকে সাতশগুণ বাড়িয়ে দেয়া হয়। আল্লাহ তাআলা বলেন: তবে রোজা ব্যতীত; কেননা রোজা কেবল আমার এবং আমিই এর প্রতিদান দিই। রোজাদার আমার জন্য তার লালসা ও খাদ্য পরিত্যাগ করে। রোজাদারের দুটি আনন্দ রয়েছে: একটি হলো রোজা ছাড়ার সময়, আর অন্যটি হলো তার রবের সাথে সাক্ষাতের সময়। আর রোজাদারের মুখের গন্ধ আল্লাহর নিকট কস্তুরির সুগন্ধি থেকেও প্রিয়।[বর্ণনায় বুখারী ও মুসলিম।]
সাওয়াব প্রাপ্তির দৃঢ় বিশ্বাস নিয়ে ও আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় যে ব্যক্তি রমজান মাসে সিয়াম-কিয়াম চর্চা করে আল্লাহ তার অতীতের সকল গুনাহ ক্ষমা করে দেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,যে ব্যক্তি সাওয়াব প্রাপ্তির দৃঢ় বিশ্বাস নিয়ে ও আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় রোজা রাখে তার অতীতের সকল গুনাহ মাফ করে দেয়া হয়। [বর্ণনায় বুখারী ও মুসলিম]
রমজান ও রোজার ফজিলত সম্পর্কে বিস্তারিত পড়তে এই লিংকে ক্লিক করুন ••► bn.islamkingdom.com/s1/4881