শনিবার, ২৭ মে, ২০১৭

যেভাবে স্বাগত জানাব মাহে রমজানকে

আল্লাহ থেকে দূরে, পাপে-অন্যায়ে
কালের শূন্য গর্ভে লীন হয়ে হয়ে
গোনাহের কালিমায় ডুবন্ত হৃদয়ে
খসে গেছে যার জীবন থেকে অজস্র ক্ষণ
রমজান তার দরজায়, নির্বাক দাঁড়িয়ে
রহমত, মাগফিরাত, মুক্তির শত আহ্বান নিয়ে।
আল্লাহ তাআলা আমাদের জন্য রেখেছেন বড়-বড় কিছু উপলক্ষ্য, মৌসুম, যা শাণিত করে আমাদের হৃদয়ে ঈমানকে, আন্দোলিত করে অন্তরাত্মায় পবিত্র সব অনুভূতি। বাড়িয়ে দেয় আমাদের ভেতর ইবাদত-বন্দেগীর জযবা। রমজান তেমনই এক মৌসুম। রমজান মুসলমানদের জন্য আল্লাহ তাআলার হাদিয়া। রমজান আমাদেরকে দেয় ঐক্য, ভ্রাতৃত্ব, স্বচ্ছতা, সহমর্মিতা, আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা,পবিত্রতা, সবর ও শৌর্যবীর্যের দীক্ষা। রমজান একটি সুমিষ্ট ঝর্নাধারা। ইবাদতকারীদের জন্য নিরাপদ ক্ষেত্র, আনুগত্যকারীদের জন্য দুর্বার দুর্গ। যারা পাপী তাদের জন্য রমজান একটি বড় সুযোগ, যাতে তারা তাদের গুনাহ থেকে তাওবা করতে পারে। তাদের জীবন-ইতিহাসে স্বচ্ছ কিছু অধ্যায় রচিত করতে পারে। তাদের জীবনকে ভরে দিতে পারে উত্তম আমলে, উৎকৃষ্ট চরিত্রে।
মাহে রমজান কুরআন নাযিলের মাস। মাহে রমজান নেক-আমলের ছাওয়াব বহুগুণে বেড়ে যাওয়ার মাস। দরজা বুলন্দ হওয়ার মাস। গুনাহ মোচন হওয়ার মাস। পদস্খলন থেকে সোজা হয়ে দাঁড়ানোর মাস। এ মাসে জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেয়া হয়। জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেয়া হয়। শয়তানকে আবদ্ধ করে রাখা হয়। যে ব্যক্তি এ মাসে ঈমান জাগ্রত রেখে, আল্লাহর কাছে ছাওয়াবের আশায় রোজা রাখে ও কিয়ামুল্লাইল করে, আল্লাহ তার অতীতের সকল গুনাহ মাফ করে দেন।
মাহে রমজান মহিমান্বিত মাস। রহমত, বরকত ও মাগফিরাতের মাস। এ মাসে উমরা আদায় হজের সমতুল্য।
প্রত্যেক প্রাপ্তবয়ষ্ক, সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন, মুকীম, সামর্থ্যবান মুসলিমের উপর রোজা রাখা ফরজ। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে রোজা রাখা ফরজ। অমুসলিমের উপর রোজা রাখা ফরজ নয়। অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুর জন্যও রোজা রাখা ফরজ নয়। তবে যদি রোজা রাখতে কষ্ট না হয় তাহলে রোজা রাখার অভ্যাস গড়ে-তোলার জন্য তাদেরকে রোজা রাখার নির্দেশ দেয়া উত্তম হবে। কেননা সাহাবায়ে কিরাম রাযি. তাঁদের বাচ্চাদেরকে রোজা রাখার নির্দেশ দিতেন। বাচ্চাদের কেউ ক্ষুধায় কাঁদতে শুরু করলে কোনো খেলনা দিয়ে সূর্যাস্ত পর্যন্ত ভুলিয়ে রাখতেন।
আল্লাহ তাআলার সকল বিধানেই রয়েছে বহুমুখী কল্যাণ। মাহে রমজানের সিয়াম সাধনা, দিনের বেলায় খানাপিনা ও কাম প্রবৃত্তিকে দমনের মধ্যেও আল্লাহ তাআলা নিহিত রেখেছেন নানাবিধ কল্যাণ। দুনিয়া ও আখেরাতের কামিয়াবি। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
এক. শয়তান ও কুপ্রবৃত্তির ক্ষমতা দুর্বল করা: রক্তমাংশের চাহিদা পূরণের জন্য রীতিমতো খাদ্য, পানীয় গ্রহণ ও যৌনসম্ভোগ চরিতার্থকরণ কুপ্রবৃত্তিকে বেপরওয়া করে তোলে, উদ্ধত করে তোলে। কুপ্রবৃত্তির তাড়নায় মানুষ সকল প্রকারের পাপাচারে লিপ্ত হয়। তাই কুপ্রবৃত্তিকে দুর্বল করার জন্য রোজার কোনো বিকল্প নেই।
দুই. যিকর ও ফিকিরের জন্য অন্তর খালি করা: কেননা প্রবৃত্তির চাহিদা প্রতিনিয়ত পুরণ করে যাওয়ায় হৃদয়ে একপ্রকার অন্ধত্ব চলে আসে। হৃদয় শক্ত হয়ে যায়। এর বিপরীতে ক্ষুধা ও পিপাসা মানুষের অন্তরকে আলোকিত করে, নরম করে। হৃদয়ের কঠিন অবস্থা দূর করে হৃদয়কে বিনম্র করে দেয়। যিকর ও ফিকিরের জন্য হৃদয়কে খালি করে দেয়।
তিন. রোজার মাধ্যমে ধনী ব্যক্তিরা আল্লাহর নেয়ামতের কদর ও মূল্য বুঝতে সক্ষম হয়। আল্লাহর অনুগ্রহের কথা বুঝতে সক্ষম হয়। কেননা অনুগ্রহ ও নেয়ামতের মূল্যায়ন মানুষ তখনই করতে শেখে যখন তা হারিয়ে যায়। রোজার দিনে খাদ্য ও পানীয় থেকে বিরত রেখে এই নেয়ামত হারিয়ে যাওয়ার অনুভূতি মানুষের মধ্যে জাগিয়ে তোলা হয়। পাশাপাশি রোজা রাখার মাধ্যমে অভাবী ও বঞ্চিত মানুষের দুরাবস্থা সম্পর্কে ধারণা লাভ করা সম্ভব হয়।
চার. রোজা মানুষের শিরা-উপশিরাকে সঙ্কুচিত করে। আর এ শিরা-উপশিরা শয়তানের প্রবেশ ও চলাচলের পথ। রোজার মাধ্যমে শয়তানের ওয়াসওয়াসা স্তিমিত হয়, যৌনপ্রবৃত্তির আন্দোলন ঝিমিয়ে পড়ে।
প্রবন্ধটি বিস্তারিত পড়ার জন্য:  ••►   bn.islamkingdom.com/s2/46681


বুধবার, ২৪ মে, ২০১৭

রোযার উপকারিতা ও প্রভাব

বান্দার জীবনে রোযার অনেক উপকারিতা ও প্রভাব বিদ্যমান- তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
১- সিয়াম বান্দা ও তার সৃষ্টিকর্তার মাঝে এক গোপন রহস্য। এর মাধ্যমে মুমিনের অন্তরে সত্যবাদিতার বীজ স্থাপিত হয়। কেননা সিয়াম অবস্থায় অন্তরে লৌকিকতার কোন জায়গা হয় না। সিয়াম মুমিনের অন্তরে আল্লাহর সর্বদর্শনের বিশ্বাস এবং আল্লাহর ভয় প্রতিপালন করে। আর উক্ত মনোবৃত্তি অর্জন মানুষের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রাপ্তি, যা ছাড়া বহু মানুষের জন্যই স্বপ্নের সৌধে পৌঁছা সম্ভবপর হয় না।
২- সিয়াম মানুষকে শৃঙ্খলা, ঐক্য, ভালবাসা, ন্যায়পরায়ণতা এবং সমতা বিধানের শিক্ষা দেয়। রোজা মানুষদের অন্তরে দয়া, সহানুভূতি এবং পরোপকারিতার মনোভাব সৃষ্টি করে। যেমনিভাবে ঐক্যবদ্ধ জীবন সমাজকে বিভিন্ন অন্যায় ও পাপ কাজ থেকে দূরে রাখে।
৩- সিয়াম মুসলমানদেরকে তার অন্য ভাইয়ের ব্যাথা বুঝতে সাহায্য করে। রোজা পালনকারী মিসকীন এবং গরিবদের প্রতি সহানুভুতিশীল হয় এবং সে অন্যের কষ্ট দূর করার ব্যাপারে সচেষ্ট থাকে। আর এভাবে মুসলমানদের মাঝে ভ্রাতৃত্ব এবং ভালোবাসা প্রতিষ্ঠিত হয়।
৪- সিয়াম আত্মাকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং এটি দায়িত্বশীল ও সহনশীল করার একটি কার্যকরী প্রশিক্ষণ।
৫- সিয়াম মানুষকে পাপ কাজে পতিত হওয়া থেকে রক্ষা করে এবং মানুষকে প্রভূত কল্যাণ দান করে। এ ব্যাপারে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃসিয়াম হলো ঢালের মতো, সুতরাং কেউ যেন রোযা অবস্থায় সহবাস না করে, এবং মুর্খের মত কাজ না করে। যদি কোন ব্যক্তি কারো প্রতি তেড়ে আসে অথবা তাকে গালি দেয়, তাহলে সে যেন বলে, আমি রোযাদার আমি রোযাদার। আর কসম ঐ সত্তার যার হাতে আমার প্রাণ; রোযাদারদের মুখের গন্ধ আল্লাহর কাছে মিশ্‌কের সুগন্ধের চেয়েও উত্তম। (হাদীসে কুদসীতে আল্লাহ বলেন) কেননা সে আমার জন্য পানাহার এবং তার খাহেশাত পরিত্যাগ করে। রোযা আমার জন্য এবং আমি নিজেই তার প্রতিদান দেব। আর ভাল কাজের প্রতিদান হলো দশ গুণ (বুখারী।)
সারমর্ম হলো: মন ও মননে ঈমানের সৌধ নির্মানে সিয়াম হলো একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মতো।
উৎস: http://bit.ly/2qO1wIs

রবিবার, ১৪ মে, ২০১৭

বিভিন্ন বিষয়ে যা কিছু প্রথম

·      কিয়ামতের বড় আলামত গুলোর মধ্যে সর্বপ্রথম আলামত: পশ্চিম দিক হইতে সূর্য উদিত হওয়া। 
·      কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম সুপারিশকারী: মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।
·      জান্নাতিরা জান্নাতে প্রবেশ করার পর তাঁদের সর্বপ্রথম খাবার হবে: মাছের কলিজা।
·      কিয়ামতের দিন মানুষের যে অঙ্গ সর্বপ্রথম কথা বলবে এবং তার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিবে:  যৌনাঙ্গ ও দুই হাত।
·      উম্মতে মুহাম্মদির যে আমলটি সর্বপ্রথম হিসাব হবে: পাঁচ ওয়াক্ত নামায।
·      কিয়ামতের দিন মানুষের মাঝে সর্বপ্রথম যে বিষয়ের ফায়সালা করা হবে: রক্তের ফায়সালা
·      কিয়ামতের দিন জমিন থেকে যিনি সর্বপ্রথম উঠবেন: মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।
·      উম্মতে মুহাম্মদির মধ্যে যিনি সর্বপ্রথম আমলনামা ডানহাতে পাবেন: উমার ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু।
·      ধনী সাহাবায়ে কেরামদের মধ্যে যিনি সর্বপ্রথম জান্নাতে প্রবেশ করবেন: আবদুর রাহমান ইবনে আউফ রাদিয়াল্লাহু আনহু।
·      উম্মতে মুহাম্মদির মধ্যে যিনি সর্বপ্রথম জান্নাতে প্রবেশ করবেন: আবু বকর সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু আনহু।
·      আল্লাহ যাকে সর্বপ্রথম সালাম করবেন এবং যিনি সর্বপ্রথম আমলনামা ডানহাতে পাবেন: উমার ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু।
·      সর্বপ্রথম যার জন্য জান্নাতের দরজা খুলে দেওয়া হবে: মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।
·      কিয়ামতের দিন নবীদের মধ্যে সর্বপ্রথম যিনি তাঁর স্ত্রী থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবেন: লূত আলাইহিস সালাম।
·      সর্বপ্রথম যিনি জান্নাতের দরজার কড়া নাড়াবেন: মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।
·      কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম যাকে বস্ত্র পরিধান করানো হবে: ইবরাহীম আলাইহিস সালাম।
·      আল্লাহর রাস্তায় সর্বপ্রথম যিনি ঘোড়া নিয়ে ছুটিয়েছিলেন: মিক্বদাদ বিন আসওয়াদ রাদিয়াল্লাহু আনহু।
·      মদীনার সর্বপ্রথম আমীর ছিলেন: সাহাল বিন হুনাইফ রাদিয়াল্লাহু আনহু।
·      মিসরের সর্বপ্রথম আমীর ছিলেন: আমর ইবনুল আছ রাদিয়াল্লাহু আনহু।
বিভিন্ন বিষয়ে যা কিছু প্রথম এর বিশাল কালেকশন, বুকমার্ক করে রাখতে পারেন: https://bn.islamkingdom.com/যা-কিছু-প্রথম