মঙ্গলবার, ১৮ জুলাই, ২০১৭

মক্কার ইতিহাস

মক্কার ইতিহাস ও অবস্থান
মক্কা সেমিটিক ভাষা বাক্কা থেকে উৎকলিত, যার অর্থ উপত্যকা।
পবিত্র কুরআনের এক জায়গায় মক্কার নাম বাক্কা বলে উল্লিখিত হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন:  (নিশ্চয় প্রথম ঘর, যা মানুষের জন্য স্থাপন করা হয়েছে, তা বাক্কায় (মক্কায়) যা বরকতময় ও হিদায়েত বিশ্ববাসীর জন্য।) [সূরা আলে ইমরান:৯৬]
খৃষ্টপূর্ব ঊনবিংশ শতাব্দীতে ইবরাহীম ও ঈসমাঈল আলাইহিমাস সালাম এর যুগ থেকে মক্কারইতিহাস শুরু হয়; কেননা তাঁরাই ছিলেন মক্কার প্রথম বসবাসকারী। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা ইবরাহীম আলাইহিস সালামের বক্তব্য এভাবে উল্লেখ করেন: (হে আমাদের রব, নিশ্চয় আমি আমার কিছু বংশধরদেরকে ফসলহীন উপত্যকায় আপনার পবিত্র ঘরের নিকট বসতি স্থাপন করালাম, হে আমাদের রব, যাতে তারা সালাত কায়েম করে। সুতরাং কিছু মানুষের হৃদয় আপনি তাদের দিকে ঝুঁকিয়ে দিন এবং তাদেরকে রিয্ক প্রদান করুন ফল-ফলাদি থেকে, আশা করা যায় তারা শুকরিয়া আদায় করবে।)[সূরা ইবরাহীম: ৩৭]
ইবরাহীম আলাইহিস সালামের দুআর ফজিলতেই ইসমাঈল আলাইহিস সালামের পায়ের নীচ থেকে যমযমের পানি বিস্ফারিত হয় যখন তার মায়ের কাছে-থাকা খাদ্য ও পানীয় শেষ হয়ে যায়। সে সময় থেকে বিভিন্ন গোত্র এ কূপের কাছে আসতে থাকে এবং মক্কা নগরীতে শুরু হয় জীবনচাঞ্চল্য।
বিভিন্ন গোত্র, নানা জায়গা থেকে মক্কায় আসতে থাকে, আর আধিক্য পেতে থাকে তারা সংখ্যায়। কুরাইশ গোত্রের কাছে অর্পিত হয় মক্কার নেতৃত্ব তথা শাসনভার। কুরাইশরা তাদের এ দায়িত্বে বহাল থাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আবির্ভাবের পূর্ব পর্যন্ত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আবির্ভাব মক্কা ও সমগ্র পৃথিবীর জীবনধারায় সাধিত করে বিশাল পরিবর্তন
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মক্কায় প্রেরিত হলেন, আর কাবা পরিণত হলো মুসলমানদের কিবলায় এবং ইসলামী দাওয়াতের সূতিকাগারে। তবে মক্কাবাসীরা ছিল ইসলামি দাওয়াতের বিরুদ্ধে অত্যাধিক কঠোর, মুসলমানদেরকে সবথেকে বেশি নির্যাতনকারী। এমনকি একসময় মুসলমানরা নিজ ভূমি ছেড়ে হিজরত করে চলে যেতে বাধ্য হন মদীনায়। এবং সেখানেই প্রতিষ্ঠা লাভ করে সর্বপ্রথম ইসলামি রাষ্ট্র। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিজয়ী বেশে ফিরে আসেন মক্কায়। সে সময় থেকে মক্কা একটি বড় ইসলামি অঞ্চলে পরিণত হয়, যা অদ্যাবধি বহাল রয়েছে।
মক্কা মুকাররামা ও মক্কার পবিত্র-অঞ্চল মুসলিম শাসক ও খলীফাদের সমধিক গুরুত্বের স্থান ছিল, যা তারা নানা পর্যায়ে উন্নত ও সম্প্রসারিত করেছেন এবং তাকে একটি কেন্দ্রে পরিণত করেছেন, যা থেকে ইসলামের আলো সমগ্র পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ে।

বিস্তারিত জানার জন্য ••► bn.islamkingdom.com/s1/4883

মঙ্গলবার, ১১ জুলাই, ২০১৭

আল্লাহ তাআলার সুন্দর নামসমূহের প্রতি ঈমান

আল্লাহ তাআলাররয়েছে সুন্দরতম নামসমগ্র আল্লাহ তাআলা বলেন: আল্লাহর রয়েছে সুন্দর সুন্দর নাম। অতএব তোমরা তাঁকে তা দিয়েই ডাক (আল আরাফ: ১৮০)।
আল্লাহর নামসমগ্রের ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয়ে আমাদেরকে সতর্ক থাকতে হবে। কেননা এক্ষেত্রে ভুল করার অর্থ ঈমান ও বিশ্বাসের ক্ষেত্রে ভুল করা।
এক. আল্লাহর নামগুলো কেবল কুরআন সুন্নাহ থেকে আহরণ করতে হবে। এক্ষেত্রে নিজের বিবেক-বুদ্ধি প্রয়োগ করে নতুন কোনো নাম আল্লাহর উপর আরোপ করা কখনো সঙ্গত হবে না। কুরআন হাদীসে যতটুকু পাওয়া যায় ততটুকুতেই সীমিত থাকতে হবে। বাড়ানোও যাবে না, কমানোও যাবে না।
দুই. আল্লাহরনামসমূহ সুনির্দিষ্ট কোনো সংখ্যায় সীমিত নয়। প্রসিদ্ধ একটি হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আমি আপনার কাছে প্রর্থনা করছি প্রত্যেক নামের উসিলায় যা কেবল আপনার, যে নাম আপনি নিজেকে দিয়েছেন, অথবা আপনার কিতাবে নাযিল করেছেন, অথবা আপনার সৃষ্টিকুলের মধ্যে কাউকে শিখিয়েছেন, অথবা আপনার ইলমে গায়েবে রেখে দিয়েছেন (আহমদ ও হাকেম)।
আর আল্লাহ তাআলা তার ইলমে গায়েবে যা সংরক্ষিত করে রেখে দিয়েছেন তা জানা অথবা আয়ত্তে আনা কোনো মানুষের পক্ষেই সম্ভব নয়।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমে আল্লাহর নিরানব্বইটি নামের কথা রয়েছে যেগুলো কেউ সংরক্ষণ করলে, ভালোভাবে বুঝলে, সে নামগুলো উল্লেখ করে দুআ করলে জান্নাতে প্রবেশের ঘোষণা রয়েছে। তবে এর অর্থ এটা নয় যে, আল্লাহর নাম কেবল এই নিরানব্বইটিতেই সীমিত। বুখারী ও মুসলিমের হাদীসের অর্থ হল, কেউ যদি কেবল নিরানব্বইটি নাম উল্লিখিতভাবে সংরক্ষণ করতে পারে তবে তার জন্য জান্নাতের ঘোষণা রয়েছে।
তিন. আল্লাহরনাম সবগুলোই সুন্দরতম, মাধুর্যমণ্ডিত।

প্রবন্ধটি বিস্তারিত পড়ার জন্য:  ••►   bn.islamkingdom.com/s2/46690

সোমবার, ৩ জুলাই, ২০১৭

পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার

পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার এমন এক হক যা আল্লাহ তাআলা আল কুরআনের অনেক জায়গায় নিজের হকের সাথে সংযুক্ত করে উল্লেখ করেছেন। এমন হক, যা সবার জন্য অবশ্য পালনীয়, যা পালন না করলে সফলতা আসে না। আল্লাহ তাআলা বলেন :তোমরা ইবাদত কর আল্লাহর,তাঁর সাথে কোন কিছুকে শরীক করো না। আর সদ্ব্যবহার কর মাতা-পিতার সাথে। (সূরা আন-নিসা:৩৬)।
পিতা-মাতার প্রতি সদ্ব্যবহার একটি আবশ্যিক বিষয় এবং তাদের অধিকার সংরক্ষণ করা ওয়াজিব। এমনকি যদি তারা অমুসলিম হন তবুও। তাদের মুসলিম হওয়ার সাথে সদ্ব্যবহারের প্রশ্ন জড়িত নয়। মাতা-পিতার সদ্ব্যবহারের নির্দেশ এখানেই শেষ নয়। বরং, তারা যদি আল্লাহর সাথে কুফরী করার নির্দেশও দেন এবং শিরক করতে বাধ্য করেন, তবু তাদের সাথে ভালো ব্যবহার অব্যাহত রাখতে হবে।
জিহাদের চেয়েও পিতার-মাতার সেবার গুরুত্ব বেশি:
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পিতা-মাতার অধিকারকে জিহাদের ওপর প্রাধান্য দিয়েছেন। বুখারী ও মুসলিমে আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রাযি. হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেনঃ আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলাম, আল্লাহর নিকট সবচেয়ে প্রিয় আমল কোনটি? তিনি বললেন, সময়মতো নামায আদায় করা। আমি বললাম, এরপর? তিনি বললেন, পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার। আমি বললাম, এরপর? তিনি বললেন, আল্লাহর পথে জিহাদ করা (বুখারী)।
অনুরূপভাবে আব্দুল্লাহ বিন আমর রাযি. হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন: এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে জিহাদে যাওয়ার অনুমতি চাইলে উত্তরে তিনি বলেন, তোমার পিতা-মাতা কি জীবিত? লোকটি বলল, জ্বি। তিনি বললেন, তাহলে তাদের মাঝেই জিহাদ করো-অর্থাৎ,তাদের সেবায় শ্রম দাও (বুখারী)।
মুয়াবিয়া বিন জাহিমা রাযি বলেন: এক লোক রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে বলল, আমি যুদ্ধে যেতে চাই। আপনার কাছে পরামর্শের জন্য এসেছি। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তোমার মা আছে? লোকটি বলল, জ্বি আছে। তিনি বললেন, তাহলে তাকে সঙ্গ দাও। কেননা জান্নাত তার পদতলে (নাসায়ী ও ইবনে মাজাহ)।
পূর্বসূরীদের জীবনীতে পিতা-মাতার সদ্ব্যবহার:
আমাদের সালাফগণ যখন পিতা-মাতার হক ও তাদের সাথে সদাচারের বিষয়টি বুঝেছেন, তখন তাঁরা পূর্ণভাবে পিতা-মাতার সেবায় আত্মনিয়োগ করেছেন। মুহাম্মদ বিন সিরীন র. এর নামতো আপনারা শুনেছেন। তিনি যখন তাঁর মাতার সঙ্গে কথা বলতেন, তখন মনে হত তিনি অনুনয় করছেন। ইবনে আওফ বলেন, একবার এক লোক মুহাম্মদ বিন সিরীন এর বাড়িতে এলেন। তখন তিনি তার মায়ের সাথে কথা বলছিলেন। লোকটি বলল, তিনি কি কোনো সমস্যায় পড়েছেন? তখন অন্যরা বললেন, না, এভাবেই তিনি তার মায়ের সাথে কথা বলেন।
হাইওয়াহ বিন শুরাইহ রহ.। তিনি একজন বড় মাপের প্রসিদ্ধ আলেম ছিলেন। তাঁর কাছ থেকে ইলম শেখার জন্য সব অঞ্চল থেকে মানুষ আসত। তিনি তাদেরকে শেখাতেন। এরই মধ্যে কখনো তার মা বলতেন, হাইয়াহ, ওঠো, মুরগীকে খাবার দাও। সাথে সাথে তিনি ক্লাস থেকে ওঠে যেতেন।
পিতা-মাতাকে কষ্ট দেয়ার নানা প্রকৃতির হতে পারে। যেমন-
-তাদের কথায় ভ্রু কুঁচকানো বা বিরক্তি প্রকাশ।
-তাদের সাথে উচ্চস্বরে কথা বলা।
-তাদের ধমক দিয়ে কথা বন্ধ করে দেয়া।
-তাদের ওপর কোনো মতামত চাপিয়ে দেয়া।
আর এসব আচরণ তো সাধারণ জ্ঞানী-গুণীরাই অপছন্দ করেন। পিতা-মাতার সাথে তো আরো অধিক অপছন্দনীয় বিষয় হবে।
-তাদের দিকে ক্ষিপ্তদৃষ্টিতে তাকানো, যেন তার এক সন্তানের দিকে শাসন করার উদ্দেশ্যে তাকাচ্ছে, বা শত্রুর দিকে তাকাচ্ছে।
-তাদের প্রয়োজন মেটাতে বিলম্ব করা।
পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহারপ্রবন্ধটি বিস্তারিত পড়ার জন্য:  ••►   bn.islamkingdom.com/s2/46646