মঙ্গলবার, ২৮ মার্চ, ২০১৭

নূহ আলাইহিস সালাম এর ইতিহাস

নূহ আলাইহিস সালাম এর সম্প্রদায়ের লোকেরা ইতিপূর্বে ঈমানদার ছিলেন, এক আল্লাহর ইবাদত করত, পরকালে বিশ্বাসী ছিলেন, তারা ভাল কাজ করতেন, সে সব লোক মারা গেলেন। লোকজন তাদের সততা ও আখলাকের কারণে চিন্তিত হলেন। তারা সে সব লোকের মূর্তি বানালো, তারা তাদের নামকরণ করল: ওয়াদ, সুয়া, ইয়াগুছ, ইয়াউক, নসর ইত্যাদি। লোকজন এ সব মূর্তির কথা ভুলে গেল, তারা এগুলোকে সে সব মৃত্যু সৎ লোকের চিহ্ন হিসেবে গণ্য করতে লাগল। শহরের লোকজন ঐ সব মৃত্যু ব্যক্তিদের সম্মানে এসব চিত্রগুলোকে সম্মান করতে লাগল। এভাবে যুগের পর যুগ চলতে লাগল, এক সময় পিতাদের মৃত্যু হলো ও সন্তানেরা বৃদ্ধ হলো, তারা এসব মূর্তিগুলোকে আরো সম্মান করে নিজেদের কাছে নিয়ে এলো, তাদের সামনে রাখল, এভাবে মূর্তিগুলো ঐ সম্প্রদায়ের নিকট অনেক সম্মানের পাত্রে পরিণত হল। এরপর পরবর্তী প্রজন্ম এলো, তারা এসবের ইবাদত করা শুরু করল, বলতে লাগল যে, এসব ইলাহদের সিজদা করতে হয়, তাদের সামনে নতজানু হতে হয়, ফলে তারা সে সবের ইবাদত করত। এভাবেই তাদের অনেকে পথভ্রষ্ট হলো।
এমতাবস্থায় আল্লাহ তাআলা তাদের নিকট হযরত নূহ (আঃ) কে পাঠালেন, তিনি তাদেরকে সঠিক পথের সন্ধান দিয়েছেন, মূর্তির পূজাঁ করতে নিষেধ করলেন, তাদেরকে এক আল্লাহর দিকে আহবান করলেন, নূহ(আঃ) জাতির কাছে এসে বললেন: সে বলেছিলঃ হে আমার সম্প্রদায়, তোমরা আল্লাহর বন্দেগী কর। তিনি ব্যতীত তোমাদের কোন মাবুদ নেই। (মুমিনুন: ২৩)
লোকেরা তাঁকে মিথ্যারোপ করল, তিনি তাদেরকে আল্লাহর আযব থেকে সতর্ক করলেন, তিনি বললেনঃ আমি তোমাদের জন্যে মহাদিবসের শাস্তি আশংকা করি। (শুয়ারা: ১৩৫)
যখন নূহ (আঃ) নিশ্চিত হলেন যে, তার জাতি যুক্তিসংগত দাওয়াত গ্রহণ করেবেনা, তারা হেদায়েতের পথে চলবেনা, তখন তিনি সীমালংঘনকারীদের থেকে নিজেকে রক্ষা করতে আল্লাহর কাছে বিনীতভাবে দোয়া করতে লাগলেন। নূহ বললেন, হে আমার পালনকর্তা, আমার সম্প্রদায় তো আমাকে মিথ্যাবাদী বলছে। (শুয়ারা: ১১৭) অতএব, আমার ও তাদের মধ্যে কোন ফয়সালা করে দিন এবং আমাকে ও আমার সংগী মুমিনগণকে রক্ষা করুন। (শুয়ারা: ১১৮)
তখন আল্লাহ তায়ালা তাকে কিস্তি তৈরি করতে বললেন। নূহ (আঃ) যখন ঈমানদার ও প্রত্যেক প্রাণী থেকে একজোড়া করে কিস্তিতে আরোহণ করলেন তখন আকাশ থেকে মুশল ধারে বৃষ্টি ঝড়তে শুরু করল, জমিন থেকে পানি নির্গত হতে লাগল। জমিন যখন পানিতে একেবারেই ডুবে গেল, তখন সব কাফির ধ্বংস হলো।
এরপরে জমিন তার পানি শুকিয়ে নিল, নূহ(আঃ) ও ঈমানদারেরা কিস্তি থেকে নামল, তারা শহর গড়ে তুলল, গাছপালা রোপণ করল, যেসব পশুপাখি তাদের সাথে ছিল সেগুলো ছেড়ে দিল, এভাবে জমিন আবাদ করা শুরু করল, লোকজন সন্তান সন্তুতি জন্ম দেয়া শুরু করল।

নূহ আলাইহিস সালাম এর ইতিহাস বিস্তারিত পড়ার জন্য:  ••► bn.islamkingdom.com/s2/47461

মঙ্গলবার, ২১ মার্চ, ২০১৭

নিপুণ সৃষ্টি

কাউকে যদি বলা হয়, একটি বিশাল অট্টালিকা বা একটি রাজপ্রাসাদ নিজে নিজেই সৃষ্টি হয়েছে, তাহলে কেউ নিশ্চয় এটা বিশ্বাস করবেন না। যদি কেউ বলে, দেখ, এই দালানটি হঠাৎ নিজের থেকে তৈরি হয়ে গেল, সবাই তাকে পাগল বলবে। তাহলে বলুন, এ বিশ্ব চরাচর, এই যে সুউচ্চ আকাশ আর সুবিস্তৃত যমীন, এই ঊর্ধ্বজগত আর নিম্নজগত কীভাবে একজন স্রষ্টা ছাড়া সৃষ্টি হতে পারে? কোনো বানানেওয়ালা ছাড়া আকস্মিকভাবে অস্তিত্ব লাভ করতে পারে? নিশ্চয় এসবের একজন স্রষ্টা আছেন। একজন অসীম ক্ষমতাবান নিয়ন্ত্রক আছেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন: তারা কি স্রষ্টা ছাড়া সৃষ্টি হয়েছে, না তারাই স্রষ্টা? তারা কি আসমান ও যমীন সৃষ্টি করেছে? বরং তারা দৃঢ় বিশ্বাস করে না (সূরা আত-তূর: ৩৫-৩৬)।
একদা এক গ্রাম্য বেদুঈনকে বলা হয়েছিলো কিভাবে তুমি তোমার প্রতিপালককে চিনলে? তখন তিনি বললেন-পদচিহ্ন অতিক্রমকারীর প্রমাণ বহন করে, উটের মল উষ্ট্রীর অস্তিত্বের প্রমাণ বহন করে। তাহলে সুউচ্চ আসমান, সুপ্রসস্ত জমিন এবং উত্তাল সমুদ্র কেন সর্বশ্রোতা এবং সর্বদর্শীর অস্তিত্বের প্রমাণ করবে না?
প্রথম আমেরিকান মহাকাশচারী জন গ্লেন বলেন: এ ধরনের সৃষ্টি দেখেও তুমি আল্লাহর উপর ঈমান আনবে না এটা অসম্ভব! এ সৃষ্টি তো আমার ঈমানকে আরো মজবুত করেছে। আমি এ চিত্রের আরো কিছু বিবরণ চাই।
আল্লাহ তায়ালা বলেন: আল্লাহ যথার্থরূপে নভোমন্ডল ও ভূমন্ডল সৃষ্টি করেছেন। এতে নিদর্শন রয়েছে ঈমানদার সম্প্রদায়ের জন্যে)। (আনকাবুত: ৪৪)।
আল্লাহ তাআলা আরও ইরশাদ করেন: তারা কি তাদের উপরে আসমানের দিকে তাকায় না, কিভাবে আমি তা বানিয়েছি এবং তা সুশোভিত করেছি? আর তাতে কোনো ফাটল নেই। আর আমি যমীনকে বিস্তৃত করেছি, তাতে পর্বতমালা স্থাপন করেছি এবং তাতে প্রত্যেক প্রকারের সুদৃশ্য উদ্ভিদ উদ্গত করেছি আল্লাহ অভিমুখী প্রতিটি বান্দার জন্য জ্ঞান ও উপদেশ হিসেবে (সূরা কাফ : ৬-৮)।
যে ব্যক্তি আসমানের দিকে তাকাবে, আসমানের নিপুণ সৃষ্টি, আসমানের সৌন্দর্য-বৈচিত্র্য এবং তার সুউচ্চতা ও শক্তির প্রতি লক্ষ্য করবে, সে তার মধ্য দিয়ে আল্লাহ তাআলার অসীম শক্তি ও ক্ষমতাই দেখতে পাবে।

বিস্তারিত পড়ার জন্য:  bn.islamkingdom.com/s2/46635


মঙ্গলবার, ১৪ মার্চ, ২০১৭

বিশ্ববাসীর জন্য রহমত স্বরূপ

আল্লাহ তায়ালা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বিশ্ববাসীর জন্য রহমত স্বরূপ প্রেরণ করেছেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন: আমি আপনাকে বিশ্ববাসীর জন্যে রহমত স্বরূপই প্রেরণ করেছি। (সূরা আম্বিয়াঃ ১০৭)
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুসলিম ও অমুসলিম সকলের জন্যই রহমত, অনুগত ও অবাধ্য, ছোট-বড়, নারী, পুরুষ, শিশু, ধনী, গরীব এককথায় সমগ্র বিশ্ববাসীর জন্য তিনি ছিলেন রহমত স্বরূপ। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ যে মানুষের উপর দয়া করে না, আল্লাহ তায়ালাও তার উপর দয়া করেন না (বুখারী ও মুসলিম)
তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আরো বলেছেনঃ আল্লাহ তায়ালা দয়ালুদের উপর দয়া ও অনুগ্রহ করেন। তোমরা জমিনবাসীকে দয়া কর, তাহলে যিনি আসমানে আছেন তিনি তোমাদের উপর দয়া করবেন। দয়া রহমান হতে উদগত। যে লোক দয়ার সম্পর্ক বজায় রাখে আল্লাহ তায়ালাও তার সাথে নিজ সম্পর্ক বজায় রাখেন। আর যে লোক দয়ার সম্পর্ক ছিন্ন করে, আল্লাহ তায়ালাও তার সাথে দয়ার সম্পর্ক ছিন্ন করেন (তিরমিজি) রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেছেনঃ হতভাগা ছাড়া কারো থেকে রহমত উঠিয়ে নেয়া হয়না (তিরমিজি) তাই আল্লাহ তায়ালা রহমতের নির্দেশ দিয়েছেন, তিনি সচ্চরিত্র, উত্তম পথ, জীবন পদ্ধতি হিসেবে উহার প্রতি সাধারণভাবে উৎসাহিত করেছেন। শরিয়ত বিশেষ কতিপয় লোকদের সাথে সাথে রহমত করতে গুরুত্ব দিয়েছে। তন্মধ্যেঃ
১- সাধারণ মানুষের সাথে দয়াঃ তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উম্মতের জন্য রহমত স্বরূপ ছিলেন, আল্লাহ তায়ালা তাঁর দ্বারা মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোর পথে, দুঃখ-দুর্দশা থেকে সুখ-শান্তির পথে নিয়ে এসেছেন। কিন্তু তাঁর রহমত শুধু মুসলমানদের মাঝেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং কাফেরদের জন্যও উন্মুক্ত ছিল। নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কার অমুসলিমদের ব্যাপারে বলেছেনঃ বরং আমি আশা করি আল্লাহ তাদের বংশধর থেকে এমন একজাতি সৃষ্টি করবেন যারা এক আল্লাহর ইবাদত করবে, তাঁর সাথে শরিক করবেন না (বুখারী ও মুসলিম) রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওহুদের যুদ্ধে আহত হলে সাহাবারা তাঁকে বললেন, আপনি মুশরিকদের উপর বদদোয়া করুন। তখন তিনি বললেনঃ হে আল্লাহ আপনি আমার জাতিকে হিদায়েত দান করুন, কেননা তারা না জেনে আমার সাথে এমন আচরণ করেছে অন্য রেওয়ায়েতে আছে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলা হলো, আপনি মুশরিকদের উপর বদদোয়া করুন, তিনি বললেনঃ আমি লানতকারী হিসেবে প্রেরিত হইনি, আমি রহমত স্বরূপ প্রেরিত হয়েছি (মুসলিম শরিফ)
২- ছোটদের প্রতি স্নেহ ভালবাসাঃ রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এক সাহাবী বলেছেন, আমরা ইব্রাহীমের (রাসুলের সন্তান) ইনতেকালের পরে রাসুলের সাথে প্রবেশ করলাম, আমরা দেখতে পেলাম, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের চক্ষুদ্বয় ক্রন্দন করছে। তখন আব্দুর রহমান ইবনে আউফ (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসুল! আপনিও (কাঁদতেছেন)? তিনি বললেনঃ হে ইবনে আউফ! ইহা হলো স্নেহ ভালবাসা। অতঃপর তিনি বললেনঃ নিশ্চয় চক্ষুদ্বয় সিক্ত হচ্ছে, অন্তর ভারাক্রান্ত হচ্ছে, আমাদের রবের সন্তুষ্টি ছাড়া কোন কথাই বলব না। হে ইব্রাহীম! নিশ্চয় তোমার বিচ্ছেদে আমরা দুঃখে ভারাক্রান্ত (বুখারী ও মুসলিম) বরং তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উসামা ইবনে যায়েদকে এক রানে আর হাসান (রাঃ) কে অন্য রানে বসাতেন। অতঃপর তাদেরকে জড়িয়ে ধরে বলতেনঃ হে আল্লাহ! আপনি এদেরকে রহমত করুন, আমি এদেরকে ভালবাসি একদা এক ব্যক্তি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট প্রবেশ করে দেখল, তিনি হাসান বা হোসাইন (রাঃ) কে চুমো দিচ্ছেন। সে রাসুলকে বললেনঃ আপনারা সন্তানদেরকে চুমো খান?! আমার তো দশটি সন্তান আছে, আমি কখনও তাদেরকে চুমো খাইনি। তখন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেনঃ যে দয়া করেনা, সে দয়া পায় ও না
৩- দুর্বলদের প্রতি রহমতঃ একদা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মসজিদে নববীতে ঝাড়ুদার এক মহিলাকে দেখতে না পেয়ে তিনি তার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন, সাহাবাবীরা বললেনঃ তিনি মারা গেছেন। এতে তিনি বললেন, তোমরা কেন আমাকে জানালেনা? .... তার কবর কোথায় দেখাও। তারা তার কবর দেখালেন। অতঃপর তিনি তার কবরে জানাযা নামাজ পড়লেন। (বুখারী ও মুসলিম) রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের খাদেম আনাস (রাঃ) বলেনঃ আমি নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দশ বছর খেদতম করেছি, তিনি কখনও আমাকে উফ শন্দটিও বলেননি। কখনও বলেননি এটা কেন করেছ বা এটা কেন করোনি? (বুখারী শরিফ) বরং বিশিষ্ট সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) বলেছেনঃ একদা আমি আমার এক দাসকে প্রহর করেছিলাম, হঠাৎ আমার পিছন দিক থেকে শব্দ শুনতে পেলামঃ জেনে রাখ হে ইবনে মাসউদ! আল্লাহ তার পক্ষ হয়ে তোমার থেকে প্রতিশোধ গ্রহণ করতে অনেক বেশী শক্তিশালী। আমি পিছনে লক্ষ্য করতেই দেখলাম, তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। তখন আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! সে আযাদ, আমি তাকে মুক্ত করে দিলাম। উত্তরে তিনি বললেন, যদি তুমি এ কাজ না করতে তাহলে জাহান্নামের আগুন তোমাকে স্পর্শ করতো। (মুসলিম শরিফ)
৪- জীব জন্তুর প্রতি দয়াঃ একদা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একটি উটের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, তিনি দেখলেন, উটটির পিঠ পেটের সাথে লেগে আছে। তিনি মালিককে বললেন, তোমরা এ সব অবুঝ জীব জানোয়ারের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় কর। ন্যায়সঙ্গতভাবে ইহাতে আরোহণ কর, এবং ন্যায়সঙ্গতভাবে এদেরকে খেতে দাও (আবু দাউদ)
৫- একদা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক আনসারীর বাগানের দেয়ালের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন তিনি একটি উট দেখতে পেলেন। উটটি রাসুলকে দেখে কান্না শুরু করে দিল, তার চক্ষু ভিজে গেল। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার কাছে গিয়ে ঘাড়ে হাত বিলিয়ে দিলেন। ফলে উটটি কান্না থামাল। অতঃপর তিনি বললেনঃ এ উটটির মালিক কে? তখন আনসারী এক যুবক এসে বলল, এটা আমার হে আল্লাহর রাসুল। তখন তিনি তাকে বললেনঃ তোমাকে আল্লাহ তায়ালা এ সব চতুষ্পদ জন্তুর মালিক করেছে, তুমি কেন এ ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করোনা? কেননা উটটি আমার কাছে অভিযোগ করেছে যে, তুমি তাকে ক্ষুধার্ত রাখ আর বেশী পরিশ্রম করাও। (আবু দাউদ)
এ সব ঘটনা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বিশ্ববাসীর জন্য রহমত স্বরূপ প্রেরণের সামান্য নমুনা। তাছাড়া ইসলামে রহমতের আলো ও উহার বাস্তবায়ন অনেক, যা এ ধর্মের বৈশিষ্ট্য ও পদ্ধতি সুস্পষ্ট করে। এ সব রহমত অপমান ও তুচ্ছতাচ্ছিল্য নয়, বরং ইহা সম্মান ও মর্যাদার রহমত।

বিস্তারিত পড়ার জন্য:  bn.islamkingdom.com/s2/47484

মঙ্গলবার, ৭ মার্চ, ২০১৭

নবী রাসূলদের উপর ঈমান

আল্লাহ তাআলা মানবজাতীকে দুনিয়াতে পাঠিয়েছেন, মানুষ প্রথমে হেদায়েতের উপরই ছিল, অতঃপর মানুষ যখন পরস্পরে বিরোধ করতে শুরু করল, সত্য ও হেদায়েত থেকে দূরে সরে যেতে লাগল, তখনই আল্লাহ তাআলা তাদেরকে শিক্ষাদীক্ষা ও আখেরাতের ভয় প্রদর্শনের জন্য ধারাবাহিকভাবে নবী রাসুলদেরকে তাঁর শরিয়ত নিয়ে পাঠিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা বলেনঃ তিনিই নিরক্ষরদের মধ্য থেকে একজন রসূল প্রেরণ করেছেন, যিনি তাদের কাছে পাঠ করেন তার আয়াতসমূহ, তাদেরকে পবিত্র করেন এবং শিক্ষা দেন কিতাব ও হিকমত। ইতিপূর্বে তারা ছিল ঘোর পথভ্রষ্টতায় লিপ্ত। (জুমআঃ ২)
প্রত্যেক নবী তাঁর স্বীয় সম্প্রদায়ের নিকট একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য এসেছেন, তাদের যা উপযোগী তা নিয়ে ও তাদেরকে পবিত্র করতে। যে ব্যক্তি কোন একজন রাসুলকে অস্বীকার করল সে যেন সব রাসুলকেই অস্বীকার করল, অতঃএব যে ঈসা (আঃ) এর উপর ঈমান আনলনা, সে মূলত মূছা (আঃ) এর উপরও ঈমান আনেনি, আর মুহাম্মদ (সাঃ) এসেছেন ঈসা ও মূছা (আঃ) এর শরিয়তকে রহিত করতে। আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ আমি আপনার প্রতি অবতীর্ণ করেছি সত্যগ্রন্থ, যা পূর্ববতী গ্রন্থ সমূহের সত্যায়নকারী এবং সেগুলোর বিষয়বস্তুর রক্ষণাবেক্ষণকারী। অতএব, আপনি তাদের পারস্পারিক ব্যাপারাদিতে আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন, তদনুযায়ী ফয়সালা করুন এবং আপনার কাছে যে সৎপথ এসেছে, তা ছেড়ে তাদের প্রবৃত্তির অনুসরণ করবেন না। (মায়েদাঃ ৪৮)
হযরত ইদ্রিস (আঃ) থেকে শুরু করে নুহ, ইব্রাহিম, ইসমাইল, মূছা , ঈসা ও মুহাম্মদ (সালাওয়াতুল্লাহি আলাহিম আজমাইন) পর্যন্ত আল্লাহর সব নবী রাসুলরা একের পর এক ধারাবাহিকভাবে এসেছেন।

আল্লাহ তাআলা তাদের কাহিনী আমাদেরকে বর্ণনা করেছেন। কেননা তাদের কাহিনীগুলোতে জ্ঞানীদের জন্য অনেক উপদেশ রয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেনঃ তাদের কাহিনীতে বুদ্ধিমানদের জন্য রয়েছে প্রচুর শিক্ষণীয় বিষয়, এটা কোন মনগড়া কথা নয়, কিন্তু যারা বিশ্বাস স্থাপন করে তাদের জন্যে পূর্বেকার কালামের সমর্থন এবং প্রত্যেক বস্তুর বিবরণ রহমত ও হেদায়েত। (ইউসুফঃ ১১১)বিস্তারিত পড়ার জন্য: bn.islamkingdom.com/s2/47460

রবিবার, ৫ মার্চ, ২০১৭

তথ্যভিত্তিক সংলাপ

মাইকেল, রাশেদ ও রাজিব ভিন্ন ধর্মাবলম্বী তিন বন্ধু। ইসলামের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তিন বন্ধুর তথ্যভিত্তিক সংলাপ।
………………………………………………………………………
রাশেদ তার বন্ধু মাইকেলের সাথে পুর্বনির্ধারিত সময়মত কফিহাউসে মিলিত হল, বসতে বসতে মাইকেল রাশেদকে বলতেশুরু করল:
আজ রাতে আমি তোমাকে একটি বিষয়ে সম্পর্কে বলব, আমার ধারণা তুমি আমার সাথে একমত হবে।
রাশেদঃ বন্ধু, একটু সবুর কর, আগে তোমার সম্মানে পানীয় অর্ডার দেই।
মাইকেলঃ তাড়াহুড়ার জন্য দুঃখিত, তুমি ঠিক বলেছ।
মাইকেল ওয়েটারকে ডাকল। ওয়েটার তাদের দিকে এগিয়ে এসে রাশেদকে কি নিবে বলে জিজ্ঞেস করল।
রাশেদঃ চা
ওয়েটার (আশ্চর্যন্বিত হয়ে): শুধু চা?!
রাশেদঃ লেবু দিয়ে চা।
ওয়েটার (আরো আশ্চর্য হয়ে): লেবু চা?!!
মাইকেল (হেঁসে হেঁসে): হ্যাঁ, উনি মুসলিম, মদ পান করেননা। বন্ধুর সাথে মিল রেখে আমিও লেবু চা খাব।
ওয়েটার তাদের অর্ডার আনতে চলে গেল। রাশেদ তোতলামো গলায় বললঃ মদ না খাওয়ায় আশ্চর্যের কি আছে?!
মাইকেলঃ বন্ধু! আমাদের দেশে মদ খাওয়া পানি পানের মতই, এখানে অনেক ধরনের ও স্বাদের মদ আছে। তুমি অর্ডারে মদ না চাওয়ায় ওয়েটার আশ্চর্য হয়েছে। বাচ্চারা ছাড় কেউ এমন করেনা, স্যরি, তুমি মনে কিছু করনা।
সংলাপটি বিস্তারিত পড়ার জন্য:  ••►  bn.islamkingdom.com/s2/47488





শুক্রবার, ৩ মার্চ, ২০১৭

সৌভাগ্য ও মানসিক প্রফুল্লতা

প্রত্যেক মানুষ শান্তি খুঁজেসৌভাগ্য ও মানসিক প্রফুল্লতা খুঁজে, কিন্তু কোথায় সুখ-শান্তির পথ?! https://bn.islamkingdom.com/ইসলাম-সম্পর্কে-জানুন/শান্তির-পথ