মানুষ যেভাবে
স্বভাবগতভাবেই সামাজিক, সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন
হয়ে একাকী বসবাস করতে পারেনা, সেভাবে সে স্বভাবগতভাবেই
ধার্মিক,
সে ধর্ম ছাড়া স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারেনা। ধার্মিকতা মানুষের
স্বভাবজাত ব্যাপার। কষ্ট ও বিপদে আপদে
পড়লে মানুষ আল্লাহ তায়া’লার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা
করে এটাই তার ধার্মিকতার সবচেয়ে বড় প্রমাণ। মার্কিন লেখক ডেল কার্নেগী বলেন – “আমি খুব স্মরণ করি সে সব দিনগুলো
যখন মানুষ শুধু বিজ্ঞান ও ধর্মের বিরোধ নিয়েই আলোচনা করত। কিন্তু এখন সে তর্ক চিরতরে
শেষ হয়ে গেছে। কারণ, সর্বাধুনিক মনো বিজ্ঞান
ধর্মের মৌলিক নিয়ম নীতি প্রচার করে, কিন্তু কেন?! কারণ, মানসিক ডাক্তারগন মনে করেন যে, মজবুত ঈমান, ধর্মাচার, ও প্রার্থনা উদ্বেগ, ভয় ও স্নায়ুতন্ত্রের উত্তেজনা দমন করার জন্য, এবং আমরা যে সব রোগে ভুগছি এর অর্ধেক নিরাময় করার জন্য যথেষ্ট।
তাই ডঃ এ এ ব্রেল বলেছেন, সত্যিকার দ্বীনদার
ব্যক্তি কখনো মানসিক রোগে ভোগে না”।
বৃহস্পতিবার, ২৮ এপ্রিল, ২০১৬
বুধবার, ২৭ এপ্রিল, ২০১৬
আমি নিজের সম্পর্কে যা জানি কোরআন আমার সম্পর্কে তার অধিক জানে
"আল কোরআন আমাকে খুবই পুলকিত করেছে। আমার অন্তরকে জয় করে নিয়েছে, আমাকে আল্লাহর নিকট আত্মসমর্পন করেছে। কোরআন পাঠককে সর্বোচ্চ
মুহুর্তে নিয়ে যায়, তখন তার সামনে একা
একা তার স্রষ্টার সামনে দন্ডায়মান হওয়াকে উদ্ভাসিত করে। কেউ কোরানকে সত্যিকারে গ্রহণ
করতে চাইলে ইহাকে সাধারণভাবে পড়লে হবে না। ইহা গভীরভাবে পড়লে পাঠককে এমন জায়গায় নিয়ে
যাবে মনে হবে তার উপর কোরানের অধিকার রয়েছে! ইহা তোমার সাথে তর্ক বিতর্ক করবে, তোমার সমালোচনা করবে, তোমাকে লজ্জায় ফেলে দিবে আবার কখনও তোমাকে চ্যালেঞ্জ করবে। আমি অন্য দলের অন্তর্ভুক্ত
ছিলাম,
আমার নিকট স্পষ্ট মনে হলো যে, এই কোরানের অবতীর্ণকারী আমার সম্পর্কে আমার চেয়ে অধিক জানেন। আমার চিন্তা ভাবনার
উপর কোরআন সর্বদা জয় লাভ করত। কোরআন আমার জিজ্ঞাসাবলীকে সম্বোধন করত...... প্রতি রাতে
আমি আমার প্রশ্ন ও আপত্তি ঠিক করতাম, পরের দিন আমার প্রশ্নের জবাব পেয়ে যেতাম... আমি কোরানের পাতায় পাতায় নিজেকে সম্মুখীন
করেছি"। জেফরি ল্যাং, মার্কিন গণিতবিদ।
সুখ ও সৌভাগ্য
সৌভাগ্য শব্দটি
সে সব শব্দের অর্ন্তভুক্ত যে সব শব্দের সঠিক অর্থের ব্যাপারে মানুষ মতানৈক্য করে থাকে।
কেউ কেউ মনে করেন, আনন্দ-মজা, আরাম-আয়েশ, ধন- সম্মদ, পদমর্যাদা বা যশ-খ্যাতি ইত্যাদি অর্জন হলো সৌভাগ্য। এভাবেই অনেক
মানুষ সৌভাগ্য অন্বেষণে জীবন নিঃশেষ করে দেয়। তবে হ্যাঁ, সৌভাগ্য হলো এমন এক অনুভূতি যা মানুষের অন্তরের গহীন থেকে উৎসারিত
হয়,
যখন সে সন্তুষ্টি, ঈর্ষা, প্রশান্তি, মহত্ব ও আনন্দ অনুভব করে। কিন্তু মানুষের স্বভাব-প্রকৃতি, গুরুত্ব, দৃষ্টি-ভঙ্গি এমনকি
সমাজ ভেদে সৌভাগ্যের ধরণও নানারূপ হয়ে থাকে। কেউ সৌভাগ্য খুঁজে পায় সম্পদের মাঝে, কেউ পায় ঘর-বাড়ি, যশ-খ্যাতি বা সুস্বাস্থের মাঝে, আবার অন্য কেউ তা খুঁজে পায় স্ত্রী, সন্তান, সম্পদ বা লেখাপড়ার মাঝে। আবার কেউ
বা খুঁজে পায় প্রিয় ব্যক্তির নৈকট্য লাভে, বা বিরক্তকর জিনিস থেকে মুক্তি পেলে, অথবা আধ্যাত্বিক সাধনা করতে অবিবাহিত থাকা, বা গরিব মিসকিনকে সাহায্য করার মাঝে। কিন্তু আশ্চর্যের ব্যাপার হলো, যখন তাদেরকে জিজ্ঞেস করা হয়, আপনি কি আসলেই সুখী? তখন তাদের উত্তর
না বোধক হয়!!!
সুইস চিন্তাবিদ
ও সাংবাদিক “রোজীহ ডুবাকীহ” সুখ ও সৌভাগ্য নিয়ে গবেষণা করেছেন, তিনি বলেন - "আমি নিজেকে
প্রশ্ন করেছিঃ মুসলমানেরা দরিদ্রতা ও অনুন্নতি সত্বেও কেন এতো সুখ অনুভব করে?! সুইডিশরা প্রশস্ত, আয়েশী ও উন্নত জীবন যাপনের
পরেও কেন এতো দুঃখ দুর্দশা ভোগ করে? এমনকি আমার দেশ সুইজারল্যান্ডেও
একই ধরণের অনুভূতি অনুভব করি যেমনটি করেছি সুইডেনে, অথচ এ দেশগুলো
হলো সমৃদ্ধিশালী ও জীবন যাপনের মান খুবই উন্নত। এ সব কিছুর ফলে আমি প্রাচ্যের ধর্মসমুহ
নিয়ে পড়াশুনার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করি। প্রথমে হিন্দু ধর্ম নিয়ে অধ্যয়ন শুরু করি। কিন্তু
আমি এতে সন্তুষ্ট হতে পারিনি। পরে ইসলাম ধর্ম নিয়ে অধ্যয়ন শুরু করি। আমি লক্ষ্য করলাম
এ ধর্ম অন্যান্য ধর্মের সাথে সাংঘর্ষিক নয়, বরং ইহা সব ধর্মকে
ব্যাপ্তি করে। ইহা সর্বশেষ ধর্ম। আমি ব্যাপকভাবে অধ্যয়ন করার ফলে এ বাস্তবতা আমার
কাছে আরো বিস্তার লাভ করে এবং ইহা আমার অন্তরে দৃঢ়ভাবে সংস্থাপিত হয়েছে"।
bn.islamkingdom.com/s1/5437
এতে সদস্যতা:
মন্তব্যসমূহ (Atom)


