সোমবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯

ইখলাস ও লৌকিকতা


ইখলাস মানে হচ্ছে: আল্লাহ তা'আলার উদ্দেশ্যে ইবাদাত করা। এক্ষেত্রে অন্য কারো প্রতি ভ্রূক্ষেপ না থাকা। ইবাদতের ক্ষেত্রে আপনার অন্তর অন্য কাউকে কামনা করবে না, আপনি মানুষের কাছে প্রশংসা বা খ্যাতি আশা করবেন না এবং মহান স্রষ্টার পক্ষ হতেই প্রতিদানের অপেক্ষা করবেন, এটাই হলো ইখলাস।
ইখলাস হল আমলের পূর্ণতা ও সৌন্দর্য। এর মূল্য অতুলনীয়। ইহা আনুগত্যের ক্ষেত্রে আল্লাহর প্রতি বান্দাকে একনিষ্ঠ বানিয়ে দেয়। মহান স্রষ্টার প্রতি বান্দার অন্তরে পূর্ণ মনোযোগ থাকার কারণে অন্য কারো প্রতি ভ্রুক্ষেপ করার কথা তার মাথায় আসে না। তার মনে মননে কেবলই আল্লাহ তা'আলার সন্তষ্টি অর্জনের ব্যাকুলতা থাকে, আল্লাহ তা'আলার কাছেই প্রতিদান আশা করে এবং এর ফলশ্রুতিতে আল্লাহ তা'আলাই তার প্রতিদান দেন। আল্লাহ ব্যতীত অন্যকিছু তার কাছে ধূলিকণার মর্যাদাও রাখে না।
আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেছেন: তাদেরকে এছাড়া কোন নির্দেশ করা হয়নি যে, তারা খাঁটি মনে একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর এবাদত করবে। [সূরা: আল-বায়্যিনাহ, আয়াত: ৫]
আইয়ূব সাখতিয়ানি সারা রাত জাগ্রত থাকতেন এবং তা গোপন রাখতেন। যখন ভোর হতো তখন তিনি সজোরে হাঁক দিতেন, যেন তিনি এইমাত্র জাগ্রত হলেন।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: প্রত্যেক কাজ নিয়তের সাথে সম্পর্কিত। আর মানুষ তার নিয়ত অনুযায়ী ফল পাবে। তাই যার হিজরত হবে দুনিয়া লাভের অথবা কোন নারীকে বিয়ে করার উদ্দেশ্যে, সেই উদ্দেশ্যই হবে তার হিজরতের প্রাপ্য (বোখারী)
ইখলাস হলো একনিষ্ট ব্যক্তির ঢাল, মুমিনের রূহ এবং বান্দা ও তার রবের মাঝে গোপন সম্পর্ক।


মঙ্গলবার, ২৯ জানুয়ারি, ২০১৯

স্রষ্টা ছাড়া সৃষ্টি!


মানুষ স্বভাবগতভাবেই ধার্মিক, সে ধর্ম ছাড়া স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারেনা। যেমন সে স্বভাবগতভাবেই সামাজিক, সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে একাকী বসবাস করতে পারেনা, সামাজিকতা ও ধার্মিকতা মানুষের স্বভাবজাত ব্যাপার।
এজন্য যারা ঈমানের দৌলত ও দৃঢ়বিশ্বাসের শীতলতা থেকে বঞ্চিত, তাদের জীবনের প্রকৃত কোন তৃপ্তি ও স্বাদ নেই। তারা আনন্দ ও আয়েশের সকল উপকরণের মাঝে জীবনযাপন করেও প্রশান্তির দেখা পায় না
আল্লাহর প্রতি ঈমান না থাকলে তার অনিবার্য পরিণাম দাড়ায়, সঙ্কীর্ণ ও বিষাদময় জীবন। ঈমানহীন আত্মা সদাসন্ত্রস্ত, হীন ও দূর্বল থাকে, সে আত্মায় থাকেনা কোন স্থিরতা ও প্রশান্তি। আর সেই দুঃসহ ও বিষাদের জীবন থেকে রেহাই পেতে বহু মানুষ আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়।
আল্লাহ তা'আলা বলেন: আপনি বলে দিন- তাকিয়ে দেখ যা কিছু আছে মহাকাশমণ্ডলীতে ও পৃথিবীতে [সূরা: ইউনুস, আয়াত: ১০১]
যে ব্যক্তি আসমানের দিকে তাকাবে, আসমানের নিপুণ সৃষ্টি, আসমানের সৌন্দর্য-বৈচিত্র্য এবং তার সুউচ্চতা ও শক্তির প্রতি লক্ষ্য করবে, সে তার মধ্য দিয়ে আল্লাহ তাআলার অসীম শক্তি ও ক্ষমতাই দেখতে পাবে।
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন: তারা কি তাদের উপরে আসমানের দিকে তাকায় না, কিভাবে আমি তা বানিয়েছি এবং তা সুশোভিত করেছি? আর তাতে কোনো ফাটল নেই। আর আমি যমীনকে বিস্তৃত করেছি, তাতে পর্বতমালা স্থাপন করেছি এবং তাতে প্রত্যেক প্রকারের সুদৃশ্য উদ্ভিদ উদ্গত করেছি আল্লাহ অভিমুখী প্রতিটি বান্দার জন্য জ্ঞান ও উপদেশ হিসেবে (সূরা কাফ: ৬-৮)
প্রথম আমেরিকান মহাকাশচারী জন গ্লেন বলেন: এ ধরনের সৃষ্টি দেখেও তুমি আল্লাহর উপর ঈমান আনবে না এটা অসম্ভব! এ সৃষ্টি তো আমার ঈমানকে আরো মজবুত করেছে। আমি এ চিত্রের আরো কিছু বিবরণ চাই।
আল্লাহ তা'আলা বলেন: অতঃপর তুমি বার বার তাকিয়ে দেখ-তোমার দৃষ্টি ব্যর্থ ও পরিশ্রান্ত হয়ে তোমার দিকে ফিরে আসবে  সূরা: মূলক, আয়াত: ৪  ﴿
একদা এক গ্রাম্য বেদুঈনকে বলা হয়েছিলো কিভাবে তুমি তোমার প্রতিপালককে চিনলে? তখন তিনি বললেন-পদচিহ্ন অতিক্রমকারীর প্রমাণ বহন করে, উটের মল উষ্ট্রীর অস্তিত্বের প্রমাণ বহন করে। তাহলে সুউচ্চ আসমান, সুপ্রসস্ত জমিন এবং উত্তাল সমুদ্র কেন সর্বশ্রোতা এবং সর্বদর্শীর অস্তিত্বের প্রমাণ করবে না?
কাউকে যদি বলা হয়, একটি বিশাল অট্টালিকা বা একটি রাজপ্রাসাদ নিজে নিজেই সৃষ্টি হয়েছে, তাহলে কেউ নিশ্চয় এটা বিশ্বাস করবেন না। যদি কেউ বলে, দেখ, এই দালানটি হঠাৎ নিজের থেকে তৈরি হয়ে গেল, সবাই তাকে পাগল বলবে। তাহলে বলুন, এ বিশ্ব চরাচর, এই যে সুউচ্চ আকাশ আর সুবিস্তৃত যমীন, এই ঊর্ধ্বজগত আর নিম্নজগত কীভাবে একজন স্রষ্টা ছাড়া সৃষ্টি হতে পারে? কোনো বানানেওয়ালা ছাড়া আকস্মিকভাবে অস্তিত্ব লাভ করতে পারে? নিশ্চয় এসবের একজন স্রষ্টা আছেন। একজন অসীম ক্ষমতাবান নিয়ন্ত্রক আছেন।
'আল্লাহর প্রতি ঈমান' এর অর্থ হলো, এমর্মে দৃঢ় বিশ্বাস করা যে,- আল্লাহই সবকিছুর প্রতিপালক, মালিক ও স্রষ্টা এবং সালাত, সিয়াম, দু', আশা, ভয়, বিনয় ও নম্রতাসহ অপরাপর সকল ইবাদাতের একক হকদার কেবল তিনিই এবং তিনিই পূর্ণতার সব গুন-বৈশিষ্ট্যে পরিপূর্ণ ও যাবতীয় ত্রুটি ও অপূর্ণতা হতে পবিত্র।
উৎসঃ  https://www.with-allah.com/bn

বুধবার, ৩১ অক্টোবর, ২০১৮

কোরআনের বিষ্ময়কর দিক - ফেরাউনের লাশ


কোরআনে অনেক বিষয়ে অনেক আলোচনা এসেছে, যেমনঃ ঐতিহাসিক ঘটনা নিয়ে অনেক আয়াত এসেছে, যা আধুনিক বিজ্ঞান ছাড়া প্রমাণ করা যাবেনা। যেমনঃ মুছা আঃ ও ফেরাউনের ঘটনা, কোরআন ফেরাউনের ডুবে মরার কথা বলেছে এবং পরবর্তী মানুষের জন্য শিক্ষা ও উপদেশ স্বরূপ তাঁর লাশ হিফাযতের কথা বলেছে। অর্থাৎ আগত জাতি তার এ ঘটনা দেখে শিক্ষা লাভ করবে। আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ অতএব আজকের দিনে বাঁচিয়ে দিচ্ছি আমি তোমার দেহকে যাতে তোমার পশ্চাদবর্তীদের জন্য নিদর্শন হতে পারে। আর নিঃসন্দেহে বহু লোক আমার মহাশক্তির প্রতি লক্ষ্য করে না। (সুরা ইউনুসঃ ৯২)
এখানে তিনটি ইশারা রয়েছেঃ
১. ফেরাউন ডুবে মরেছে ।
২. পানি থেকে তার লাশকে উত্তোলন করা ও সংরক্ষণ করা হয়েছে
৩. তার এ লাশকে হেফাযত করা হয়েছে মমি করে যাতে মানুষ তা দেখতে পারে।
আধুনিক বিজ্ঞান এটাই প্রমাণ করেছে। কিন্ত তার লাশের মমি ১৮৯৮ সালের আগে আবিষ্কৃত হয়নি, অর্থাৎ রাসুলের সাঃ ইন্তেকালের প্রায় ১২০০ বছর পরে। ১৯৮১ সালের আগে এ সব মমির মৃত্যুর কারণ তখনো জানা যায়নি, যে এটা পানিতে ডুবে মারা গেছে। আধুনিক যন্ত্রপাতি, পরীক্ষা নীরিক্ষার দ্বারা একদল বিজ্ঞানী তাদের মধ্যে অন্যতম ফ্রান্সের মরিচ বুকাইলী (Maurice Bucaille) এটাকে প্রমাণ করেছেন। তিনি একথা আগে জানতেন না যে কোরআনে এ ব্যাপারে কিছু বলা হয়েছে , ফলে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন। অতঃপর (আল কোরআন, তাওরাত, ইঞ্জিল ও বিজ্ঞান.. আধুনিক জ্ঞানের আলোকে পবিত্র ধর্মগন্থের মাঝে পর্যালোচনা) নামে বই লিখেন।
এটা কোরআন যে আল্লাহর পক্ষ থেকে নাযিলকৃত ওহী এর প্রমাণ, আর ইসলাম যে আসমানী ধর্ম এরই প্রমাণ।
কোরআনের কিছু বৈজ্ঞানিক বিষ্ময়কর দিক: https://goo.gl/oskuoe



সোমবার, ১৯ মার্চ, ২০১৮

মানব ইতিহাসের চিরস্থায়ী মহানজন


ডক্টর মাইকেল হার্ট, জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও গাণিতবিদ, তিনি মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসায় কাজ করতেন। ঐতিহাসিক গবেষণা এ বিজ্ঞানীর মজার শখ ছিল। তিনি লক্ষ্য করলেন যে, কোটি কোটি মানুষের মাঝে বিশ্বকোষ মাত্র বিশ হাজার মানুষ ছাড়া অন্য কাউকে উল্লেখ করেনি, তখন তিনি তাদের মধ্য হতে মহামানবদেরকে বাছাই করার জন্য কিছু মূলনীতি ঠিক করলেন। এর গুরুত্বপূর্ন মূলনীতিগুলো হলোঃ ব্যক্তির বাস্তবিকতা থাকা অর্থাৎ , কাল্পনিক বা অপরিচিত না হওয়া এবং খুব প্রভাব বিস্তারকারী হওয়া, চাই সেটা ভাল কাজে হোক বা খারাপ কাজে হোক। এ প্রভাব বিশ্বব্যাপী হতে হবে, এবং মানব ইতিহাসের সাথে বিস্তৃত হতে হবে।
এ লেখকের মতে কে সবচেয়ে বেশি মহান ব্যক্তিত্বের অধিকারী? !
এ লেখক ইসলামের নবী মুহাম্মদ সাঃ কে একশত মহান ব্যক্তির মধ্যে প্রথমে রেখেছেন। তার এ নির্বাচনের অনেকগুলো কারণ ছিল, লেখক বলেনঃ
আমি মুহাম্মদ সাঃ কে এ তালিকার সবার উপরে রেখেছি, এতে হয়ত অনেকেই আশ্চর্যবোধ করবে, তারা আশ্চর্য হতেই পারেন, তবে মুহাম্মদ সাঃ ইতিহাসে একমাত্র ব্যক্তি যিনি দ্বীন ও দুনিয়া উভয় ক্ষেত্রে পূর্ণ সফলতা অর্জন করেছেন। তিনি অন্যান্য মহান ধর্মের প্রবর্তকের মত ইসলামের দিকে লোকদেরকে ডেকেছেন, তিনি রাজনৈতিক, সামরিক ও ধর্মীয় একচ্ছত্র নেতা ছিলেন। তাঁর মৃত্যুর তেরশত বছর পরও তাঁর প্রভাব এখনো শক্তিশালী ও নবজীবনপ্রাপ্ত।"
এরপর তিনি বলেছেনঃ " ......এটা অদ্ভুত মনে হতে পারে যে, মুহাম্মদ এ তালিকায় সবার উপরে, অথচ খৃষ্টানদের সংখ্যা মুসলমানদের চেয়ে দ্বিগুণ, এটা হয়ত অদ্ভুত মনে হতে পারে যে তিনি তালিকায় সবার উপরে অথচ ঈসা আঃ তালিকায় তিন নম্বরে, আর মুসা আঃ ষোল নম্বরে।
 তবে এর অনেকগুলো কারণ রয়েছেঃ এর অন্যতম হলোঃ ইসলামের প্রচার কাজ, ইহা প্রতিষ্ঠা ও এর শরিয়তের বিধিবিধানগুলো সুপ্রতিষ্ঠিত করতে রাসুল মুহাম্মদ সাঃ এর ভূমিকা ঈসা আঃ এর তুলনায় অনেক বেশী ভয়ানক, কষ্টকর, ও মহান ছিল। তাছাড়া ঈসা আঃ খৃস্টানদের জন্য শুধু চারিত্রিক কিছু মূলনীতি নিয়ে এসেছেন, আর সেন্ট পল ঈসাই ধর্মের মূলনীতি প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তিনি (সেন্ট পল) নিউ টেস্টামেন্টে যা কিছু আছে তা লিখার দায়িত্বশীল ছিলেন।
অন্যদিকে মুহাম্মদ সাঃ নিজেই ইসলামের নীতিমালা, শরিয়তের মূলনীতিসমূহ, সামাজিক ও চারিত্রিক মূলনীতি, মানুষের দ্বীন ও দুনিয়ার চলার জন্য সব ধরণের লেনদেনের মূলনীতি ইত্যাদি সব কিছুর ব্যাপারে একমাত্র দায়িত্বশীল ছিলেন। কোরআন একমাত্র তাঁর উপরই নাযিল হয়েছে, কোরআনে মুসলমানেরা দ্বীন-দুনিয়ার প্রয়োজনীয় সব কিছুই পেয়ে থাকে।"
তাঁর কথাগুলো সন্তোষজনক ও নিরপেক্ষ ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত।
মহামানবদের সর্বশ্রেষ্ঠজন আরও বিস্তারিত পড়ুনঃ https://goo.gl/gy2cMF



মঙ্গলবার, ১৮ জুলাই, ২০১৭

মক্কার ইতিহাস

মক্কার ইতিহাস ও অবস্থান
মক্কা সেমিটিক ভাষা বাক্কা থেকে উৎকলিত, যার অর্থ উপত্যকা।
পবিত্র কুরআনের এক জায়গায় মক্কার নাম বাক্কা বলে উল্লিখিত হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন:  (নিশ্চয় প্রথম ঘর, যা মানুষের জন্য স্থাপন করা হয়েছে, তা বাক্কায় (মক্কায়) যা বরকতময় ও হিদায়েত বিশ্ববাসীর জন্য।) [সূরা আলে ইমরান:৯৬]
খৃষ্টপূর্ব ঊনবিংশ শতাব্দীতে ইবরাহীম ও ঈসমাঈল আলাইহিমাস সালাম এর যুগ থেকে মক্কারইতিহাস শুরু হয়; কেননা তাঁরাই ছিলেন মক্কার প্রথম বসবাসকারী। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা ইবরাহীম আলাইহিস সালামের বক্তব্য এভাবে উল্লেখ করেন: (হে আমাদের রব, নিশ্চয় আমি আমার কিছু বংশধরদেরকে ফসলহীন উপত্যকায় আপনার পবিত্র ঘরের নিকট বসতি স্থাপন করালাম, হে আমাদের রব, যাতে তারা সালাত কায়েম করে। সুতরাং কিছু মানুষের হৃদয় আপনি তাদের দিকে ঝুঁকিয়ে দিন এবং তাদেরকে রিয্ক প্রদান করুন ফল-ফলাদি থেকে, আশা করা যায় তারা শুকরিয়া আদায় করবে।)[সূরা ইবরাহীম: ৩৭]
ইবরাহীম আলাইহিস সালামের দুআর ফজিলতেই ইসমাঈল আলাইহিস সালামের পায়ের নীচ থেকে যমযমের পানি বিস্ফারিত হয় যখন তার মায়ের কাছে-থাকা খাদ্য ও পানীয় শেষ হয়ে যায়। সে সময় থেকে বিভিন্ন গোত্র এ কূপের কাছে আসতে থাকে এবং মক্কা নগরীতে শুরু হয় জীবনচাঞ্চল্য।
বিভিন্ন গোত্র, নানা জায়গা থেকে মক্কায় আসতে থাকে, আর আধিক্য পেতে থাকে তারা সংখ্যায়। কুরাইশ গোত্রের কাছে অর্পিত হয় মক্কার নেতৃত্ব তথা শাসনভার। কুরাইশরা তাদের এ দায়িত্বে বহাল থাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আবির্ভাবের পূর্ব পর্যন্ত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আবির্ভাব মক্কা ও সমগ্র পৃথিবীর জীবনধারায় সাধিত করে বিশাল পরিবর্তন
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মক্কায় প্রেরিত হলেন, আর কাবা পরিণত হলো মুসলমানদের কিবলায় এবং ইসলামী দাওয়াতের সূতিকাগারে। তবে মক্কাবাসীরা ছিল ইসলামি দাওয়াতের বিরুদ্ধে অত্যাধিক কঠোর, মুসলমানদেরকে সবথেকে বেশি নির্যাতনকারী। এমনকি একসময় মুসলমানরা নিজ ভূমি ছেড়ে হিজরত করে চলে যেতে বাধ্য হন মদীনায়। এবং সেখানেই প্রতিষ্ঠা লাভ করে সর্বপ্রথম ইসলামি রাষ্ট্র। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিজয়ী বেশে ফিরে আসেন মক্কায়। সে সময় থেকে মক্কা একটি বড় ইসলামি অঞ্চলে পরিণত হয়, যা অদ্যাবধি বহাল রয়েছে।
মক্কা মুকাররামা ও মক্কার পবিত্র-অঞ্চল মুসলিম শাসক ও খলীফাদের সমধিক গুরুত্বের স্থান ছিল, যা তারা নানা পর্যায়ে উন্নত ও সম্প্রসারিত করেছেন এবং তাকে একটি কেন্দ্রে পরিণত করেছেন, যা থেকে ইসলামের আলো সমগ্র পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ে।

বিস্তারিত জানার জন্য ••► bn.islamkingdom.com/s1/4883

মঙ্গলবার, ১১ জুলাই, ২০১৭

আল্লাহ তাআলার সুন্দর নামসমূহের প্রতি ঈমান

আল্লাহ তাআলাররয়েছে সুন্দরতম নামসমগ্র আল্লাহ তাআলা বলেন: আল্লাহর রয়েছে সুন্দর সুন্দর নাম। অতএব তোমরা তাঁকে তা দিয়েই ডাক (আল আরাফ: ১৮০)।
আল্লাহর নামসমগ্রের ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয়ে আমাদেরকে সতর্ক থাকতে হবে। কেননা এক্ষেত্রে ভুল করার অর্থ ঈমান ও বিশ্বাসের ক্ষেত্রে ভুল করা।
এক. আল্লাহর নামগুলো কেবল কুরআন সুন্নাহ থেকে আহরণ করতে হবে। এক্ষেত্রে নিজের বিবেক-বুদ্ধি প্রয়োগ করে নতুন কোনো নাম আল্লাহর উপর আরোপ করা কখনো সঙ্গত হবে না। কুরআন হাদীসে যতটুকু পাওয়া যায় ততটুকুতেই সীমিত থাকতে হবে। বাড়ানোও যাবে না, কমানোও যাবে না।
দুই. আল্লাহরনামসমূহ সুনির্দিষ্ট কোনো সংখ্যায় সীমিত নয়। প্রসিদ্ধ একটি হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আমি আপনার কাছে প্রর্থনা করছি প্রত্যেক নামের উসিলায় যা কেবল আপনার, যে নাম আপনি নিজেকে দিয়েছেন, অথবা আপনার কিতাবে নাযিল করেছেন, অথবা আপনার সৃষ্টিকুলের মধ্যে কাউকে শিখিয়েছেন, অথবা আপনার ইলমে গায়েবে রেখে দিয়েছেন (আহমদ ও হাকেম)।
আর আল্লাহ তাআলা তার ইলমে গায়েবে যা সংরক্ষিত করে রেখে দিয়েছেন তা জানা অথবা আয়ত্তে আনা কোনো মানুষের পক্ষেই সম্ভব নয়।
সহীহ বুখারী ও মুসলিমে আল্লাহর নিরানব্বইটি নামের কথা রয়েছে যেগুলো কেউ সংরক্ষণ করলে, ভালোভাবে বুঝলে, সে নামগুলো উল্লেখ করে দুআ করলে জান্নাতে প্রবেশের ঘোষণা রয়েছে। তবে এর অর্থ এটা নয় যে, আল্লাহর নাম কেবল এই নিরানব্বইটিতেই সীমিত। বুখারী ও মুসলিমের হাদীসের অর্থ হল, কেউ যদি কেবল নিরানব্বইটি নাম উল্লিখিতভাবে সংরক্ষণ করতে পারে তবে তার জন্য জান্নাতের ঘোষণা রয়েছে।
তিন. আল্লাহরনাম সবগুলোই সুন্দরতম, মাধুর্যমণ্ডিত।

প্রবন্ধটি বিস্তারিত পড়ার জন্য:  ••►   bn.islamkingdom.com/s2/46690

সোমবার, ৩ জুলাই, ২০১৭

পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার

পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার এমন এক হক যা আল্লাহ তাআলা আল কুরআনের অনেক জায়গায় নিজের হকের সাথে সংযুক্ত করে উল্লেখ করেছেন। এমন হক, যা সবার জন্য অবশ্য পালনীয়, যা পালন না করলে সফলতা আসে না। আল্লাহ তাআলা বলেন :তোমরা ইবাদত কর আল্লাহর,তাঁর সাথে কোন কিছুকে শরীক করো না। আর সদ্ব্যবহার কর মাতা-পিতার সাথে। (সূরা আন-নিসা:৩৬)।
পিতা-মাতার প্রতি সদ্ব্যবহার একটি আবশ্যিক বিষয় এবং তাদের অধিকার সংরক্ষণ করা ওয়াজিব। এমনকি যদি তারা অমুসলিম হন তবুও। তাদের মুসলিম হওয়ার সাথে সদ্ব্যবহারের প্রশ্ন জড়িত নয়। মাতা-পিতার সদ্ব্যবহারের নির্দেশ এখানেই শেষ নয়। বরং, তারা যদি আল্লাহর সাথে কুফরী করার নির্দেশও দেন এবং শিরক করতে বাধ্য করেন, তবু তাদের সাথে ভালো ব্যবহার অব্যাহত রাখতে হবে।
জিহাদের চেয়েও পিতার-মাতার সেবার গুরুত্ব বেশি:
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পিতা-মাতার অধিকারকে জিহাদের ওপর প্রাধান্য দিয়েছেন। বুখারী ও মুসলিমে আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রাযি. হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেনঃ আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলাম, আল্লাহর নিকট সবচেয়ে প্রিয় আমল কোনটি? তিনি বললেন, সময়মতো নামায আদায় করা। আমি বললাম, এরপর? তিনি বললেন, পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার। আমি বললাম, এরপর? তিনি বললেন, আল্লাহর পথে জিহাদ করা (বুখারী)।
অনুরূপভাবে আব্দুল্লাহ বিন আমর রাযি. হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন: এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে জিহাদে যাওয়ার অনুমতি চাইলে উত্তরে তিনি বলেন, তোমার পিতা-মাতা কি জীবিত? লোকটি বলল, জ্বি। তিনি বললেন, তাহলে তাদের মাঝেই জিহাদ করো-অর্থাৎ,তাদের সেবায় শ্রম দাও (বুখারী)।
মুয়াবিয়া বিন জাহিমা রাযি বলেন: এক লোক রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে বলল, আমি যুদ্ধে যেতে চাই। আপনার কাছে পরামর্শের জন্য এসেছি। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তোমার মা আছে? লোকটি বলল, জ্বি আছে। তিনি বললেন, তাহলে তাকে সঙ্গ দাও। কেননা জান্নাত তার পদতলে (নাসায়ী ও ইবনে মাজাহ)।
পূর্বসূরীদের জীবনীতে পিতা-মাতার সদ্ব্যবহার:
আমাদের সালাফগণ যখন পিতা-মাতার হক ও তাদের সাথে সদাচারের বিষয়টি বুঝেছেন, তখন তাঁরা পূর্ণভাবে পিতা-মাতার সেবায় আত্মনিয়োগ করেছেন। মুহাম্মদ বিন সিরীন র. এর নামতো আপনারা শুনেছেন। তিনি যখন তাঁর মাতার সঙ্গে কথা বলতেন, তখন মনে হত তিনি অনুনয় করছেন। ইবনে আওফ বলেন, একবার এক লোক মুহাম্মদ বিন সিরীন এর বাড়িতে এলেন। তখন তিনি তার মায়ের সাথে কথা বলছিলেন। লোকটি বলল, তিনি কি কোনো সমস্যায় পড়েছেন? তখন অন্যরা বললেন, না, এভাবেই তিনি তার মায়ের সাথে কথা বলেন।
হাইওয়াহ বিন শুরাইহ রহ.। তিনি একজন বড় মাপের প্রসিদ্ধ আলেম ছিলেন। তাঁর কাছ থেকে ইলম শেখার জন্য সব অঞ্চল থেকে মানুষ আসত। তিনি তাদেরকে শেখাতেন। এরই মধ্যে কখনো তার মা বলতেন, হাইয়াহ, ওঠো, মুরগীকে খাবার দাও। সাথে সাথে তিনি ক্লাস থেকে ওঠে যেতেন।
পিতা-মাতাকে কষ্ট দেয়ার নানা প্রকৃতির হতে পারে। যেমন-
-তাদের কথায় ভ্রু কুঁচকানো বা বিরক্তি প্রকাশ।
-তাদের সাথে উচ্চস্বরে কথা বলা।
-তাদের ধমক দিয়ে কথা বন্ধ করে দেয়া।
-তাদের ওপর কোনো মতামত চাপিয়ে দেয়া।
আর এসব আচরণ তো সাধারণ জ্ঞানী-গুণীরাই অপছন্দ করেন। পিতা-মাতার সাথে তো আরো অধিক অপছন্দনীয় বিষয় হবে।
-তাদের দিকে ক্ষিপ্তদৃষ্টিতে তাকানো, যেন তার এক সন্তানের দিকে শাসন করার উদ্দেশ্যে তাকাচ্ছে, বা শত্রুর দিকে তাকাচ্ছে।
-তাদের প্রয়োজন মেটাতে বিলম্ব করা।
পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহারপ্রবন্ধটি বিস্তারিত পড়ার জন্য:  ••►   bn.islamkingdom.com/s2/46646