বুধবার, ৬ জুলাই, ২০১৬

ঈদের নামায ও ঈদের মুস্তাহাবসমূহ

ঈদ, ইবাদত ও খুশি-আনন্দ প্রকাশ এবং বৈধ খাদ্য গ্রহণের মাঝে সমন্বয় ঘটিয়েছে। এ কারণেই ঈদ খুশি-আনন্দ ও খাওয়া দাওয়ার পর্ব। তবে ঈদের দিন এমন কোনো গর্হিত কাজ করা যাবে না, যা ইসলামের শিক্ষা ও আদর্শের সাথে মিলে না। যেমন নারী-পুরুষের সংমিশ্রণ। নামাজ থেকে গাফেল হওয়া। হারাম পানীয় গ্রহণ করা। হারাম খেলায় মেতে উঠা এবং এ জাতীয় অন্যান্য কাজ যা হারামের আওতাভুক্ত।
আল্লাহ তাআলা ঈদের দিন একটি নামাজ বিধিবদ্ধ করেছেন, যার নাম ঈদের নামাজ। এ নামাজটি হলো ঈদের প্রধান বাহ্যদৃশ্য।
ঈদের নামাজের হুকুম
ঈদেরনামাজ ওয়াজিব। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ নামাজ পড়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
ঈদের নামাজ দু রাকাত, যাতে আযান ইকামত নেই। ঈদের নামাজের কিরাত প্রকাশ্যে পড়তে হয়।
ঈদের নামাজ আদায়ের জায়গা
ঈদের নামাজ মসজিদে নয় বরং মাঠে পড়া সুন্নত। প্রয়োজনে যদি মসজিদে পড়া হয় তবে কোনো সমস্যা হবে না।
ঈদের মুস্তাহাবসমূহ
ইমাম ব্যতীত অন্যান্য মুসুল্লীরা সকাল সকাল ঈদগাহে আসবে এবং প্রথম কাতারের দিকে আগাবে।
যদি সম্ভব হয় তাহলে পায়ে হেঁটে এক পথে যাবে এবং অন্য পথে ফিরে আসবে। জাবির রাযি. বর্ণনা করে বলেন, ঈদের দিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যাওয়া-আসার রাস্তায় পার্থক্য করতেন। [বর্ণনায় বুখারী]
ঈদুল ফিতরের নামাজের উদ্দেশে বের হওয়ার পূর্বে বেজোড় সংখ্যায় খেজুর খাওয়া মুস্তাহাব (তিনটি অথবা পাঁচটি)।
ঈদুল ফিতরের নামাজ দেরিতে আদায় করা মুস্তাহাব; যাতে মানুষ সদকায়ে ফিতর আদায় করতে ও হকদারদের কাছে তা পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়।
ঈদের আহকাম
ঈদগাহে, ঈদের নামাজের পূর্বে ও পরে, নফল নামাজ পড়া মাকরুহ। কিন্তু যদি ঈদের নামাজ মসজিদে আদায় করা হয়, তাহলে মসজিদে প্রবেশের সময় তাহিয়াতু মসজিদ পড়া শুদ্ধ রয়েছে।
নিম্নবর্ণিত শব্দমালা দ্বারা ঈদের মুহূর্তে আল্লাহর বড়ত্বের ঘোষণা তথা তাকবীর দিতে হয়:
الله أكبر، الله أكبر، لا إله إلا الله، والله أكبر، الله أكبر، ولله الحمد
পুরুষদের জন্য উঁচু আওয়াজে তাকবীর দেয়া সুন্নত। আর নারীরা দেবে গোপনে। কেননা নারীদেরকে আওয়াজ নিচু রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
তাকবীর শুরু হবে ঈদের রাতে সূর্যাস্তের পর থেকে ঈদের নামাজ শুরু হওয়া পর্যন্ত। সূর্যাস্তের পর থেকে তাকবীর শুরু হবে যদি পরদিন ঈদ হবে বলে সূর্যাস্তের পূর্বেই নিশ্চিত হওয়া যায়, যেমন রমজান মাস ত্রিশ দিন পূর্ণ হয়ে গেল অথবা ঈদের চাঁদ উঠার ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া গেল।
ঈদের সময় মুসলমানদের মাঝে পরস্পর শুভেচ্ছা বিনিময় মুস্তাহাব।
ঈদে আনন্দিত হওয়া এবং আনন্দ প্রকাশ করা মুস্তাহাব। আত্মীয়-স্বজন, বন্ধুবান্ধব ও মুসলিম ভাই বেরাদরকে শুভেচ্ছা বিনিময়ও মুস্তাহাব।
ঈদ একটি সুযোগ, যা আত্মীয়তা-সম্পর্ক জোড়া লাগানো এবং যাদের মধ্যে ঝগড়া হচ্ছে তাদেরকে মিলিয়ে দেয়ার সর্বোত্তম সময়।
•••►   http://bit.ly/295eXKB

সোমবার, ৪ জুলাই, ২০১৬

সদকায়ে ফিতর কি, ইহার হুকুম, আদায়ের সময় ও সদকায়ে ফিতরের হিকমত

সদকায়ে ফিতর হলো- রমজানান্তে রোজা ভঙ্গকেন্ত্রিক রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কর্তৃক আরোপিত সদকা। যেহেতু রমজনান্তে ফিতর তথা  রোজা ভঙ্গ করা হয়, তাই এ সদকাকে সদকায়ে ফিতর বলা হয়।
সদকায়ে ফিতরের হুকুম
ঈদের দিন ও রাতে যে ব্যক্তি তার নিজের ও পরিবারের খাবারের অতিরিক্ত এক সা পরিমাণ খাদ্যের মালিক হবে তার ওপর সদকায়ে ফিতর ওয়াজিব হবে।
সদকায়ে ফিতরদাতা নিজের, তার স্ত্রীর ও যাদের ব্যয়ভার বহনের দায়িত্ব রয়েছে, তাদের সবার পক্ষ থেকে সদকায়ে ফিতর আদায় করবে।
সদকায়ে ফিতর আদায়ের সময়
সদকায়ে ফিতর আদায়ের ফজিলতপূর্ণ সময় হলো ঈদের দিন সূর্যোদয়ের পর ও ঈদের নামাজের পূর্বে। ঈদের দু একদিন পূর্বেও সদকায়ে ফিতর আদায় করা জায়েয; কেননা সাহাবায়ে কেরাম এরূপ করেছেন। ঈদের নামাজের পর সদকায়ে ফিতর আদায় করা জায়েয নয়। এর প্রমাণ উল্লিখিত হাদীস :আর তিনি সদকা আদায়ের নির্দেশ দিয়েছেন মানুষ নামাজের জন্য বের হওয়ার পূর্বেই। ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত এক হাদীসে এসেছে,যে ব্যক্তি নামাজের আগে তা আদায় করে দেবে তবে তার সদকা গ্রহণযোগ্য হবে, আর যে নামাজের পর আদায় করবে তার সদকা সাধারণ দান বলে গণ্য হবে।(বর্ণনায় আবু দাউদ)
সদকায়ে ফিতরের খাত
যাকাতের যে আট খাত উল্লিখিত হয়েছে, সে আট খাতে সদকায়ে ফিতরও বণ্টন করা হবে।
সদকায়ে ফিতরের হিকমত
রোজাদারকে অশ্লীল ও অহেতুক কথা থেকে পবিত্র করা। ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সদকায়ে ফিতর ফরজ করেছেন রোজাদারকে অহেতুক ও অশ্লীল কথা থেকে পবিত্র করার উদ্দেশে ও মিসকীনদের খাবার দান স্বরূপ।(বর্ণনায় বুখারী ও মুসলিম)
এটা এ কারণে যে রোজাদার ব্যক্তি অহেতুক ও বাতিল কথাবার্তা থেকে মুক্ত থাকে না। সে হিসেবে এ সদকা রোজাদারকে হারাম ও মাকরুহ কথাবার্তা, যা রোজার ছাওয়াব কমিয়ে দেয় ও রোজার পরিপূর্ণতায় বিঘ্ন ঘটায়, এ সব থেকে রোজাদারকে পবিত্র করে দেয়।
দরিদ্রদের প্রতি প্রশস্তি আনা ও ঈদের দিন তাদেরকে অভাবমুক্ত করে দেয়া যাতে অন্যের কাছে সওয়াল করতে না হয়; কেননা এতে ঈদের দিন তাদেরকে হীন ও অপদস্ত হয়ে থাকতে হয়। পক্ষান্তরে ঈদ হলো আনন্দ ও খুশির দিন। সবাই যাতে এ দিনের আনন্দে অংশ নিতে পারে সে জন্যেই সদকায়ে ফিতরের এ ব্যবস্থা।