বান্দার জীবনে রোযার অনেক উপকারিতা
ও প্রভাব বিদ্যমান- তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
১- সিয়াম বান্দা ও তার সৃষ্টিকর্তার
মাঝে এক গোপন রহস্য। এর মাধ্যমে মুমিনের অন্তরে সত্যবাদিতার বীজ স্থাপিত হয়। কেননা
সিয়াম অবস্থায় অন্তরে লৌকিকতার কোন জায়গা হয় না। সিয়াম মুমিনের অন্তরে আল্লাহর সর্বদর্শনের
বিশ্বাস এবং আল্লাহর ভয় প্রতিপালন করে। আর উক্ত মনোবৃত্তি অর্জন মানুষের জীবনের সবচেয়ে
গুরুত্বপূর্ণ প্রাপ্তি, যা ছাড়া বহু মানুষের
জন্যই স্বপ্নের সৌধে পৌঁছা সম্ভবপর হয় না।
২- সিয়াম মানুষকে শৃঙ্খলা, ঐক্য, ভালবাসা, ন্যায়পরায়ণতা এবং সমতা বিধানের শিক্ষা দেয়। রোজা মানুষদের অন্তরে
দয়া,
সহানুভূতি এবং পরোপকারিতার মনোভাব সৃষ্টি করে। যেমনিভাবে ঐক্যবদ্ধ
জীবন সমাজকে বিভিন্ন অন্যায় ও পাপ কাজ থেকে দূরে রাখে।
৩- সিয়াম মুসলমানদেরকে তার অন্য ভাইয়ের
ব্যাথা বুঝতে সাহায্য করে। রোজা পালনকারী মিসকীন এবং গরিবদের প্রতি সহানুভুতিশীল হয়
এবং সে অন্যের কষ্ট দূর করার ব্যাপারে সচেষ্ট থাকে। আর এভাবে মুসলমানদের মাঝে ভ্রাতৃত্ব
এবং ভালোবাসা প্রতিষ্ঠিত হয়।
৪- সিয়াম আত্মাকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং
এটি দায়িত্বশীল ও সহনশীল করার একটি কার্যকরী প্রশিক্ষণ।
৫- সিয়াম মানুষকে পাপ কাজে পতিত হওয়া
থেকে রক্ষা করে এবং মানুষকে প্রভূত কল্যাণ দান করে। এ ব্যাপারে রাসূল সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ ‘সিয়াম হলো ঢালের মতো, সুতরাং কেউ যেন রোযা অবস্থায় সহবাস না করে, এবং মুর্খের মত কাজ না করে। যদি কোন ব্যক্তি কারো প্রতি তেড়ে আসে অথবা তাকে গালি
দেয়,
তাহলে সে যেন বলে, আমি রোযাদার আমি রোযাদার। আর কসম ঐ সত্তার যার হাতে আমার প্রাণ; রোযাদারদের মুখের গন্ধ আল্লাহর কাছে মিশ্কের সুগন্ধের চেয়েও
উত্তম। (হাদীসে কুদসীতে আল্লাহ বলেন) কেননা সে আমার জন্য পানাহার এবং তার খাহেশাত পরিত্যাগ
করে। রোযা আমার জন্য এবং আমি নিজেই তার প্রতিদান দেব। আর ভাল কাজের প্রতিদান হলো দশ
গুণ’।
(বুখারী।)
সারমর্ম হলো: মন ও মননে ঈমানের সৌধ নির্মানে
সিয়াম হলো একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মতো।
উৎস: http://bit.ly/2qO1wIs
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন