রিযক অন্বেষণ করা, জীবনধারণের উপকরণ সন্ধান করা, ইসলামী শরীয়তের একটি
স্পষ্ট নির্দেশ। মানবাত্মাও প্রকৃতিগতভাবে রিযক অন্বেষণের পেছনে ছুটে চলে। আর আল্লাহ
তাআলা দিনকে করেছেন জীবিকা অর্জনের সময়কাল। তিনি মানুষকে নির্দেশ দিয়েছেন ভূপৃষ্ঠে
বিচরণ করতে এবং তাঁর দেয়া রিযক ভোগ করতে। শুধু তাই নয়, বরং
যারা পৃথিবীর বুকে আল্লাহর দেয়া রিযকের সন্ধানে বিচরণ করে তাদেরকে তিনি বিজাতীয় শত্রুদের
বিরুদ্ধে পবিত্র যুদ্ধে নিয়োজিত মুজাহিদদের সাথে যুক্ত করে একই আয়াতে উল্লেখ করেছেন।
শরীয়তের দৃষ্টিতে রিযক অন্বেষণে শ্রম ব্যয়ের গুরুত্ব এখান
থেকেও বুঝা যায় যে, রাসূলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজ হাতে উপার্জিত খাদ্যকে সর্বোত্তম খাদ্য বলে আখ্যায়িত
করেছেন। সহীহ বুখারীর একটি হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: নিজ হাতে উপার্জিত খাদ্যের চেয়ে উত্তম খাদ্য কেউ খায়নি। আর
নিশ্চয় আল্লাহর নবী দাউদ আ. নিজ হাতের উপার্জন থেকেই খেতেন (বুখারী)।
হালাল রিযক উপার্জন করে মানুষের দ্বারস্থ হওয়া থেকে বেঁচে
থাকাই বিশাল সম্মান ও মর্যাদার বিষয়। এমনকী উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি. বলেন: আমার মৃত্যু
এমন জায়গায় আসার চেয়ে অধিক প্রিয় জায়গা আর নেই যেখানে আমি আমার পরিবারের জন্য বাজার
করা তথা কেনা- বেচায় রত থাকব।
লুকমান হাকীমের একটি প্রজ্ঞাময় উপদেশ এ রকম, হে বৎস, তুমি হালাল রিযক উপার্জন
করে দারিদ্র্য থেকে ধনাঢ্যতা অর্জন করো। কেননা কোনো ব্যক্তির দরিদ্র হওয়ার অর্থই হল
তিনটি বদগুণে জড়িয়ে যাওয়া- এক. দীন পালনে ক্ষীণতা। দুই. আকল-বুদ্ধির দুর্বলতা। তিন.
পৌরুষত্বের বিদায়।
নিশ্চয় পবিত্র উপার্জন ও নির্ভেজাল সম্পদ আহরণে নিহিত রয়েছে
দীনদারী মানসম্মানের সুরক্ষা, মন ও হৃদয়ের
প্রফুল্লতা, চেহারার বিমর্ষহীনতা ও ইজ্জতের মাকাম অর্জনে ধন্য
হওয়া।
তবে যে বিষয়টি আমাদেরকে অধিক গুরুত্ব দিয়ে ভাবতে হবে তা হলো, আমরা যা উপার্জন করছি পবিত্র কি না, হালাল কি না। কেননা আল্লাহ তাআলা যা পবিত্র ও হালাল কেবল তাই ভক্ষণ করার
নির্দেশ দিয়েছেন। আর যা অপবিত্র ও হারাম তা থেকে আমাদেরকে বিরত থাকতে বলেছেন।
প্রবন্ধটি বিস্তারিত পড়ুন: bn.islamkingdom.com/s2/46643

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন