আল্লাহর খাতিরে, পরকালীন কল্যাণের আশায় মানুষের হৃদয় আকৃষ্ট করার প্রতি ইসলাম খুবই গুরুত্ব
দিয়েছে। প্রিয় নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছিলেন মানুষের কল্যাণ
কামনায় ও তাদের হৃদয় আকৃষ্ট করায় সর্বশ্রেষ্ঠ। আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করা, অসহায় মানুষের বোঝা বহন, মেহমানদারি, বিপদে-আপদে পাশে গিয়ে দাড়ানো এসব কর্ম ছিল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লামের নিত্যদিনের ঘটনা।
তিনি তাঁর সাহাবীদের মাঝে ঐক্য-ভ্রাতৃত্ব, পারস্পরিক মমত্ববোধ ও সৌহার্দ বজায় রাখার প্রতি কতটুকু আগ্রহী
ছিলেন। তাই আমাদের উচিত হবে, মানুষে-মানুষে ঝগড়া-বিবাদের সকল
উপল্য দূরিভূত করা। পরস্পরে বিভেদ সৃষ্টি হয় এমন যেকানো কাজ শুরুতেই থামিয়ে দেয়া। তাহলেই
পরস্পরে মিল-মহব্বতের পরিবেশ কায়েম থাকবে। একে অন্যের প্রতি আকৃষ্ট হৃদয় নিয়ে মানুষ
জীবনযাপন করবে।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: ‘হে লোকসকল! নিশ্চয়
তোমাদের মধ্যে কিছু মানুষ রয়েছে, যারা মানুষকে
দূরে ঠেলে দেয়’ (বুখারী)।
মানুষের অন্তর জয়ের কিছু পদ্ধতি:
১ হাস্যোজ্জ্বল চেহারায় মানুষের সাথে কথা বলা এবং দেখা-সাক্ষাৎ
করা। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সদা হাস্যোজ্জ্বল চেহারায় থাকতেন।
হাসিমুখে মানুষের সাথে দেখা-সাক্ষাৎ করা বন্ধুত্ব সৃষ্টির একটি বিশ্বজনীন পদ্ধতি। হাদীসে
এসেছে:‘তোমার ভাইয়ের সম্মুখে তোমার মুচকি হাসি একটি সাদকা’ (তিরমিযী,
সহীহ)।
২.দেখা-সাক্ষাতে মুসাফাহা বা করমর্দন করা: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীদের সাথে মুসাফাহা করতেন আর সাহাবীগণও তাঁর সাথে এবং পরস্পরে
মুসাফাহা করতেন। হাসান আল বাসরী রহ. বলেন, ‘মুসাফাহা মুহব্বত
বাড়িয়ে দেয়’।
৩. অন্যের দুঃখ-কষ্ট-অভিযোগ ধৈর্যসহ শোনা এবং ভালো পরামর্শ
দেয়া: মানুষের হৃদয়ের বন্ধ দরজা উন্মুক্ত করার এটি একটি বড় মাধ্যম।
৪. মানুষের সাথে মেলা-মেশা করা।
৫. মানুষের উপকার করা। হাদীসে
এসেছে : আল্লাহ তা‘আলা বান্দাকে ততণ পর্যন্ত সাহায্য করতে থাকেন যতণ পর্যন্ত
বান্দা তার ভাইয়ের সাহায্য সহযোগিতা করতে থাকে’ (মুসলিম)।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন